ইরানের হুমকির পর ব্রিটিশ ঘাঁটিতে নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত ঘাঁটিটিতে গত কয়েক দিনে সড়কে ব্যারিকেড, সশস্ত্র পুলিশ এবং জরুরি বিভাগের বিপুলসংখ্যক যান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটির প্রধান প্রবেশপথে সশস্ত্র পুলিশ অবস্থান নিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩০টি জরুরি যান, যার মধ্যে পুলিশ গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের গাড়িও রয়েছে, দেখা গেছে।

এর মধ্যেই ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে। ওয়েলফোর্ড এলাকার কয়েকটি বাড়ি থেকেও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফেয়ারফোর্ড ব্রিটেনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর একটি। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সময় এখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ও বি-১বি ল্যান্সার বোমারু বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সম্পদ মোতায়েনের নজির রয়েছে।

ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন বিমানবাহিনী। তবে এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ইউনিটগুলো পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে।

মার্কিন বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং এবং যুক্তরাজ্যে থাকা অন্যান্য মার্কিন ইউনিট নিজেদের সেনাসদস্য, বেসামরিক কর্মী, ঠিকাদার ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয় বলেও উল্লেখ করেন।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি নিয়ে এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সতর্কবার্তা দিয়েছিল। জুলাইয়ে আইআরজিসি বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে বোমা হামলা চালায়, তাহলে এসব ঘাঁটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছিল, দেশের ভেতর কিংবা বিদেশ থেকে যেকোনো হামলা মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ওই অবস্থানের অংশ হিসেবে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার বিভিন্ন স্তর প্রস্তুত রাখার কথা জানানো হয়েছিল। রয়্যাল নেভি, ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ও রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সক্ষমতা এবং ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও তখন উল্লেখ করা হয়।

ফেয়ারফোর্ডে নিরাপত্তা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট হামলার হুমকি প্রকাশ করেনি। তবে বিস্ফোরক আইনে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার, আশপাশের এলাকা খালি করা এবং সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দলের তৎপরতা পরিস্থিতিটিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কারণ তৈরি করেছে।

একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, এর পরও ওয়াশিংটন আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটি হিসেবে ফেয়ারফোর্ডের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনাটি শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয় নয়; চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন