মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে ব্রেন্ট ফিউচারস এই পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দামও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল—যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানো ও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিলে তেহরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে। এরপর পারমাণবিক ইস্যুসহ বৃহত্তর সমঝোতার আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান।
কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কতটা স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আবারও বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে পরিশোধিত জ্বালানি, যেমন ডিজেলের বাজারে ইতোমধ্যে সরবরাহ সংকট ও উচ্চ দামের চাপ দেখা যাচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামও উচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। এতে হরমুজের ওপর কিছুটা চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ দিয়ে তেল রপ্তানিও বাড়িয়েছে।
ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর আগে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ইরানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি তারা কূটনীতির পথ খোলা রাখছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনা সম্ভব।
ফলে তেলের বাজার এখন মূলত দুটি বিষয়ের দিকে তাকিয়ে আছে—হরমুজ দিয়ে সরবরাহ কতটা বাড়ে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আবারও কোনো সমঝোতার দিকে এগোয় কি না।
হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে এবং তেলের দামেও চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিপরীতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কিংবা প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্যের সরবরাহ ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে।
তাই ট্রাম্পের ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া শুধু কূটনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।
শৌচাগারের কথা বলে যেভাবে পালালো 'পিচ্চি রাজা'
৯ বছর পর জাপানের বড় পর্দায় ফিরছেন আমির খান
জাপানে ঘরজামাই নিয়োগ! আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও