ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে ‘সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি’, গ্রেপ্তার ৫

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ডের কাছে ‘সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির’ অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।

রোববার ভোরে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান বিমানঘাঁটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়। ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলিশ একটি ফোন পায়। ফোনকারী জানান, তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে যাচ্ছে।

খবর পেয়ে সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। পরে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঘটনার পর সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনটি যানবাহন ঘিরে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের প্রায় ৮৫টি পরিবারের সদস্যকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের স্থানীয় একটি অবসরকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল যানবাহনগুলো পরীক্ষা করার সময় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়।

হামলার লক্ষ্য কী ছিল?

এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে জানায়নি, গ্রেপ্তার পাঁচজন কারা বা তাদের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কী ছিল। তাদের জাতীয়তা, পরিচয় কিংবা কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই তাদের বিষয়ে তদন্ত করছিল এবং তারা ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করতে চেয়েছিল। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের বাইরে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে ব্রিটিশ তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশের জাতীয় সমন্বয়ক ভিকি ইভান্স বলেন, তদন্ত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পাঁচজন এখনো হেফাজতে আছেন। তদন্তকারীরা ঘটনাটির পুরো পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন।

ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটেছে, যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের কারণে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।

কিছু প্রতিবেদনে তদন্তকারীরা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে এমন কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি। তাই গ্রেপ্তারকারীদের ইরানপন্থি বা ইরান-সমর্থিত বলে চিহ্নিত করার মতো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘাঁটিটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ও বিমান মোতায়েন থাকে।

চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যেও ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার মার্চে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ‘নির্দিষ্ট ও সীমিত’ হামলার অনুমতি দেয়।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। তবে ফেয়ারফোর্ডের কাছে এবারের গ্রেপ্তারের সঙ্গে ওই হুমকির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো সরকারি প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার পর ফেয়ারফোর্ড এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সড়কে ব্যারিকেড বসানো এবং সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক রয়েছেন; তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করেনি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ঘটনাটিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ‘গভীর উদ্বেগের’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমানভিত্তিক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে পাঁচজনই এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। বিস্ফোরক পরীক্ষাসহ তদন্ত চলছে। হামলার পরিকল্পনা আদৌ ছিল কি না, থাকলে এর পেছনে কারা ছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য কী—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত