ইরানকে সহায়তা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে’ চীন: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ইরানকে দেওয়া সহায়তা চীন ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের অবশিষ্ট প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল তেলও চীনের উদ্দেশে সমুদ্রপথে রয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব তেলের শেষ চালান পৌঁছে যেতে পারে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে আল জাজিরা ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

বেসেন্ট বলেন, ‘চীন ইরানকে দেওয়া যেকোনো ধরনের সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।’ তাঁর ভাষ্য, ইরানের প্রায় ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ব্যারেল তেল এখনো সমুদ্রে রয়েছে। এগুলো চীনে পৌঁছানোর পর ইরানের হাতে তেল বিক্রির মতো বড় কোনো চালান আর অবশিষ্ট থাকবে না—এমনটাই তাঁর ধারণা।

ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। চলমান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানের তেল সরবরাহের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের অপরিশোধিত তেল চীনে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। কেপলার, ভর্টেক্সা ও ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১৪ জুলাই থেকে ইরানের নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী চালান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনে সফলভাবে পৌঁছাতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিকে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর চাপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, তেল বিক্রি ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক আয়ের উৎস।

চীনের অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ

ইরান ইস্যুতে চীনের ভূমিকা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পার্ডু বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানকে চীনের যেকোনো ধরনের সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি স্পষ্ট করেছেন।

পার্ডুর ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি বা পরোক্ষ সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য, যন্ত্রাংশ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম—যে কোনো ধরনের সহায়তাকেই ওয়াশিংটন অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে।

এর আগে বেসেন্টও বলেছিলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মতপার্থক্যের পাশাপাশি কিছু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ বাণিজ্য ও নৌ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

বেসেন্টের দাবি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

বেসেন্টের সর্বশেষ বক্তব্যের তাৎপর্য হলো—ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে এবং চীনের সঙ্গে তেল বাণিজ্যও সীমিত হয়ে আসছে।

তবে চীন ইরানকে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে—এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তাঁর বক্তব্যে দেওয়া হয়নি। ‘সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে’—এটি মার্কিন প্রশাসনের মূল্যায়ন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুদিনের। ফলে বেইজিং ভবিষ্যতে কী পরিমাণ ইরানি তেল কিনবে বা তেহরানের সঙ্গে অন্যান্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করবে, সেটি চলমান পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করতে পারে।

হরমুজ নিয়ে দর-কষাকষিতে অর্থনৈতিক চাপ

চীন ইরানের অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা হওয়ায় এই সম্পর্ক হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরান এর আগে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানো, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে একই সময়ে তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনার আশা প্রকাশ করেছেন।

এই অবস্থায় বেসেন্টের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপকে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরানের তেল বিক্রির সুযোগ সীমিত হলে তেহরানের ওপর চুক্তিতে যাওয়ার চাপও বাড়বে।

তবে চীনের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে কি না, কিংবা এই অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত হরমুজ ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত