ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ‘কূটকৌশলী’ বললো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘কূটকৌশলী’ বা ‘সিনিক্যাল’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটির শর্তগুলো এমন যে তা গ্রহণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান এমন কিছু শর্ত সামনে এনেছে, যা তাদের জানা ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যে প্রস্তাব তুলে ধরেন, তাতে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজকে ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধের অবসানের মতো বিষয় রয়েছে।

ওয়াল্টজ বলেন, এসব শর্ত পূরণ করার পর কেবল আলোচনায় বসার প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। তাঁর ভাষায়, অবরোধ প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদে ইরানের প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি করে ‘শুধু আলোচনায় বসার’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, ইরান হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যে শর্ত দিচ্ছে, তা তিনি গ্রহণ করছেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।

ওয়াল্টজ বলেন, কয়েক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল, সেটির পর ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের আস্থা কমেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির একটি সমাধান দরকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব বিকল্প খোলা রাখবেন।

আরাগচির পাল্টা বক্তব্য

মার্কিন সমালোচনার জবাবে আরাগচি এনবিসিকে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের শর্তগুলো নতুন নয়। তাঁর দাবি, এগুলো এমন কিছু অধিকার, যেগুলো ইরান আগে থেকেই দাবি করে আসছে।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আস্থার সংকটের কথাও তুলে ধরেন।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতির সুযোগ সব সময়ই রয়েছে। কিন্তু অতীতের আচরণের কারণে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আবার আলোচনায় ফেরার বিষয়ে তেহরানের আস্থা কমেছে। তবু শান্তির কোনো সুযোগ নষ্ট না করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

হরমুজই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এর চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, দুই পক্ষ ধাপে ধাপে সংকট নিরসনের একটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করছিল। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজে নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টি। তবে দুই পক্ষই নিজেদের হাতে থাকা চাপ প্রয়োগের উপায় ছাড়তে অনাগ্রহী হওয়ায় সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।

ফলে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই একদিকে কঠোর অবস্থান ও সামরিক প্রস্তুতির কথা বলছে, অন্যদিকে পরোক্ষ আলোচনার সম্ভাবনাও খোলা রাখছে। এখন আলোচনার মূল প্রশ্ন—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত দাবিগুলোর কতটা মেনে নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন