হুথিদের হাতে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাদের ব্যবস্থার মধ্যে ‘প্যালেস্টাইন-২’, ‘তুফান’, ‘বুরকান’ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘কুদস’ সিরিজের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পুরোনো অস্ত্রভাণ্ডারে স্কাড, তোচকা, কাহের-১ এবং সি-৮০২ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
ইরানি প্রযুক্তি ও উপাদান হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে Wall Street Journal জানিয়েছে, ইরানের কুদস ফোর্স দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উপাদান, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে বলে বিভিন্ন মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সূত্রের মূল্যায়ন রয়েছে।
হুথিরা যদি সত্যিই ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে নতুন ধরনের লোইটারিং ক্রুজ মিসাইল তৈরি করে থাকে এবং তা নিয়মিত ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে। এর প্রভাব সৌদি আরবের পাশাপাশি দক্ষিণ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।
তবে বর্তমান পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন অস্ত্রটির অস্তিত্ব, নকশা ও কার্যক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত। তাই ইয়েমেন সরকারের অভিযোগকে নিশ্চিত সামরিক সক্ষমতা হিসেবে দেখার পরিবর্তে সম্ভাব্য নতুন হুমকি হিসেবে পর্যবেক্ষণ করাই যুক্তিসংগত।
অন্যদিকে, হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রকাশ্য। সৌদি আরবের ইয়ানবু ও তায়েফের দিকে সাম্প্রতিক হামলা এবং হুথিদের রিয়াদ ও আরামকো স্থাপনায় হামলার দাবি দেখাচ্ছে—ইয়েমেনের সংঘাতের সামরিক পরিসর আবারও সৌদি ভূখণ্ড ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিকে বিস্তৃত হচ্ছে।
এ অবস্থায় নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি সত্য হলে তা হবে হুথিদের অস্ত্র সক্ষমতার আরেকটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত; আর দাবি সত্য না হলেও, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাই সৌদি আরব ও লোহিত সাগরের আকাশ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
গাজার যুদ্ধাপরাধ থেকে দৃষ্টি সরাতেই কাতারকে টার্গেট করছেন নেতানিয়াহু