হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তরুণদের প্রতিবাদ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়েছেন কয়েকজন তরুণ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গেলে অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য তাঁকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

কর্মসূচিতে অংশ নিতে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খোলা হয়। সেখানে রানার, অ্যাথলেট, সাইক্লিস্ট, জিমে যাতায়াতকারীসহ সাধারণ নাগরিকদের স্পোর্টসওয়্যার পরে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হিসেবে স্পষ্ট নিয়ম, যাত্রীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ এবং হয়রানির প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রোস্টেশনের নিচে আসেন তিন তরুণ—বেসরকারি চাকরিজীবী ও রানার সাগর মজুমদার, রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান।

সাগর মজুমদার বলেন, তিনি একজন রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরা তাঁর কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। সম্প্রতি সাজ্জাদ হোসেন শর্টস পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগের পর তিনি মনে করেছেন, ভবিষ্যতে অন্য রানারদেরও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। সে কারণেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, শর্টস নিজে কোনো বিষয় নয়; বিষয়টি দেখার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এ নিয়ে নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর সকাল সাতটার পর সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন। তাঁরা টিকিট কেটে ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। টিকিট পাঞ্চ করে প্ল্যাটফর্মে যান এবং পরে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে নিজেদের গন্তব্যে চলে যান।

রকিবুল ইসলাম অবশ্য তাঁদের সঙ্গে মেট্রোরেলে ওঠেননি। তিনি জানান, একজন রানারকে হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি কর্মসূচিতে এসেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি তাঁর প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল বলে জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনের অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন। তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। তাঁরা ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গেলে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য তাঁর পোশাককে ‘অশালীন’ বলে মন্তব্য করেন এবং তাঁকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখতে পুলিশ একটি কমিটি গঠন করেছে।

এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলে যাতায়াতের জন্য পোশাকসংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ নেই। তবে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকদের বক্তব্য, কর্মসূচিটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য নয়; বরং পোশাক নিয়ে হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ এবং গণপরিবহনে যাত্রীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ নাগরিক কর্মসূচি।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত