দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দিকে (পিওডব্লিউ) দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করায় ইউক্রেন প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ‘আরও পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে লি বলেন, ইউক্রেন যদি বিষয়টি স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার অবস্থান থেকে সরে না আসে, তাহলে সিউল প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়ার ‘মর্যাদা’ ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
ঘটনার সূত্রপাত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে। গত সপ্তাহে তিনি জানান, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করার সময় ইউক্রেনের হাতে আটক হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে ওই হস্তান্তরের তথ্য গোপন রাখার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। সিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দিদের এবং উত্তর কোরিয়ায় থাকা তাদের পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই বিষয়টি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ইউক্রেন ওই গোপনীয়তা চুক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এমন কোনো চুক্তি ছিল না। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা পরে বিষয়টিকে ‘কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার আশা প্রকাশ করেন।
দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী আটক করেছিল। তারা রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া উত্তর কোরীয় বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পরে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের নিজেদের সংবিধান অনুযায়ী গ্রহণ করে থাকে। ফলে ওই দুই যুদ্ধবন্দির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিউলের সরাসরি আগ্রহ ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় উত্তর কোরিয়ায় বন্দিদের পরিবারগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সিউল মনে করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সিউল ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চেয়েছে। ইউক্রেনও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট লির নতুন বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, শুধু ব্যাখ্যা নয়—ইউক্রেনের কাছ থেকে প্রকাশ্য স্বীকৃতি ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে সিউল এখন গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে। ইউক্রেন তা না করলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে লি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিহা দুই দেশের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ভুল বোঝাবুঝির অবসান চান। ফলে আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধটি মেটানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিরোধ এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা এবং সেনা পাঠানোর বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দির দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানান্তর সেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলটকে 'ইসলামপন্থী উগ্রবাদী', দাবি নেতানিয়াহুর
টাকার বদলে ক্রিকেটারদের নিলাম হবে পয়েন্টের ভিত্তিতে