রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কার্যক্রম বন্ধ হলেও নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনো বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
জাতিসংঘে ব্রিটিশ স্থায়ী প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকইনটশ বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ নবায়নে ভেটো পড়লেও ইরানের পারমাণবিক বিস্তার-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে এবং জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের জন্য তা বাধ্যতামূলক।
ম্যাকইনটশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্যের ভেটোর ফলে ইরান নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেল আর কাজ করবে না। এতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও তা এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের সক্ষমতা কমবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি প্রস্তাবে ইরানের ওপর পুনর্বহাল হওয়া নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া ও চীন ভেটো দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হয়নি। ভোটে ১১টি দেশ পক্ষে ভোট দেয় এবং রাশিয়া ও চীন বিপক্ষে ভোট দেয়; পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।
জাতিসংঘের এই প্যানেল নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, লঙ্ঘন ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিকে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ মতামত দেওয়ার দায়িত্ব পালন করত। প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ম্যাকইনটশের বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর দাবি, ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা—আইএইএ—বর্তমানে ওই মজুতের সঠিক পরিমাণ, গঠন ও অবস্থান পুরোপুরি যাচাই করতে পারছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাজ্যের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশের স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। লন্ডন বলছে, ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের অবস্থানের পার্থক্যও রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের কয়েকটি মিত্র দেশ মনে করে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৫ সালে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়েছে এবং সেগুলো এখনো বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আইনি ভিত্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছে। তবে ১৭ সেপ্টেম্বরের ভেটোর ফলে অন্তত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের স্বাধীন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে—এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের ফল স্পষ্ট।
এই বিরোধ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে মতপার্থক্য আরও তীব্র হয়েছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
ফলে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা যেমন প্রশ্নে রয়েছে, তেমনি সেগুলো পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাও এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি রাশিয়া থেকে দেশে আসছে আজ
মধ্যপ্রাচ্যে তিন মার্কিন রণতরি, সম্ভাব্য ২০ হাজার সেনার সমাবেশ
‘নোবেল’ পুরস্কারে মনোনীত হলেন শেরপুরের জয়া
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট 'ইসলামপন্থী উগ্রবাদী', দাবি নেতানিয়াহুর
টাকার বদলে ক্রিকেটারদের নিলাম হবে পয়েন্টের ভিত্তিতে