কল্পনা করুন—আপনি হাজার হাজার ফুট ওপরে একটি বিমানে বসে আছেন। সবকিছু স্বাভাবিক। যাত্রীরা কেউ ঘুমাচ্ছেন, কেউ সিনেমা দেখছেন, কেউ জানালার বাইরে মেঘের দিকে তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে নিচে নামতে শুরু করল। ককপিটে চলছে ধস্তাধস্তি। আর যে পাইলটের হাতে আপনার জীবন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব, তিনিই যদি আরেক পাইলটের সঙ্গে প্রাণপণ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন?
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে এমনই এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। হঠাৎ সেটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে। কিছুক্ষণ পর বিমান আবার ওঠে, তারপর ফের দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। একই সময়ে বিমানের ট্রান্সপন্ডারে প্রথমে ‘৭৭০০’ এবং পরে ‘৭৫০০’ সংকেত পাঠানো হয়। ‘৭৫০০’ আন্তর্জাতিকভাবে বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু পরে জানা যায়, এটি প্রচলিত অর্থে কোনো সশস্ত্র যাত্রী-ছিনতাই ছিল না। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল এবং কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ কারণ ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন।
৩০ সেকেন্ডে ভয়ংকর পতন
ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সটি যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল, তখন আচমকা বিমানের উচ্চতা দ্রুত কমতে থাকে। রাডার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের কাছাকাছি নিচে নেমে যায়।
বিমানটি আবার ওপরে উঠলেও কিছুক্ষণের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অস্বাভাবিকভাবে নিচে নামতে শুরু করে। ককপিটে কী ঘটছিল, তখন কেবিনের অধিকাংশ যাত্রী জানতেন না।
এর মধ্যেই পাইলটরা প্রথমে ‘৭৭০০’—সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত—পাঠান। কয়েক মিনিট পর পাঠানো হয় ‘৭৫০০’। আকাশপথে এই সংকেতের অর্থ বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য হাইজ্যাক। ফলে বিমানটির পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তাৎক্ষণিক সতর্কতা তৈরি হয়।
পরে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। আহত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর বিমানে থাকা যাত্রী, কেবিন ক্রু এবং দুজন অফ-ডিউটি পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ ছিলেন এবং আহত ক্যাপ্টেন চিকিৎসা শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরেছেন। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাটি ঘটনার কারণ বা উদ্দেশ্য নিয়ে আগাম অনুমান না করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনা নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—বিমান নিরাপত্তায় এতদিন যেখানে বাইরের সন্ত্রাসী বা ছিনতাইকারীর প্রবেশ ঠেকানো ছিল প্রধান লক্ষ্য, সেখানে বিমানের ভেতরের কারও কাছ থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে?
এনটেবে: একটি বিমান, শতাধিক জিম্মি এবং দুঃসাহসিক উদ্ধার
বিমান ছিনতাইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ১৯৭৬ সালের এনটেবে ছিনতাই।
২৭ জুন এয়ার ফ্রান্সের ১৩৯ নম্বর ফ্লাইট তেল আবিব থেকে প্যারিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এথেন্সে যাত্রাবিরতির পর চার ছিনতাইকারী বিমানে ওঠে। তাদের মধ্যে ফিলিস্তিনি ও জার্মান বামপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য ছিল। বিমানটি প্রথমে লিবিয়ার বেনগাজিতে এবং পরে উগান্ডার এনটেবেতে নিয়ে যাওয়া হয়।
জিম্মিদের পুরোনো টার্মিনালে আটকে রাখা হয়। ছিনতাইকারীরা বন্দি মুক্তির দাবি জানায়।
কয়েক দিন ধরে চলা সংকটের পর ইসরায়েলি কমান্ডোরা এনটেবে বিমানবন্দরে অভিযান চালায়। জিম্মিদের একটি বড় অংশকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক জিম্মি-উদ্ধার অভিযানের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হয়ে ওঠে।
এখানে একটি সংশোধন জরুরি—অনেক বর্ণনায় ঘটনাটিকে ‘১০ দিন পর’ বলা হলেও ছিনতাইটি ২৭ জুন এবং উদ্ধার অভিযান ৪ জুলাই রাতে হওয়ায় সংকটটি প্রায় এক সপ্তাহের ছিল।
লুফথানসা ১৮১: মরুভূমির রাতে কমান্ডো অভিযান
১৯৭৭ সালের ১৩ অক্টোবর। লুফথানসার ‘ল্যান্ডশুট’ ফ্লাইট মায়োর্কা থেকে ফ্রাঙ্কফুর্টের দিকে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ৮৬ যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু।
ফিলিস্তিনি ছিনতাইকারীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পাইলটকে হত্যা করার পর বিমানটি একাধিক দেশে ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত সোমালিয়ার মোগাদিশুতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে শুরু হয় জিম্মি উদ্ধারের প্রস্তুতি।
১৮ অক্টোবর ভোররাতে পশ্চিম জার্মানির বিশেষ বাহিনী জিএসজি-৯ ‘অপারেশন ফয়্যারজাউবার’ পরিচালনা করে। মাত্র কয়েক মিনিটের অভিযানে জিম্মিদের মুক্ত করা হয়। চার ছিনতাইকারীর মধ্যে তিনজন নিহত হয় এবং একজন আহত অবস্থায় ধরা পড়ে।
অভিযানটি দেখিয়ে দেয়, বিমান ছিনতাইয়ের মতো সংকটে বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী, গোয়েন্দা তথ্য এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
টিডব্লিউএ ৮৪৭: ১৭ দিনের জিম্মি আতঙ্ক
১৯৮৫ সালের ১৪ জুন এথেন্স থেকে রোমগামী টিডব্লিউএ ৮৪৭ ফ্লাইট উড্ডয়নের পর দুই অস্ত্রধারী বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
বিমানটি বৈরুত ও আলজিয়ার্সের মধ্যে বারবার যাতায়াত করে। ১৫৩ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে শুরু হওয়া এই জিম্মি সংকট চলে প্রায় ১৭ দিন। ছিনতাইকারীরা ইসরায়েলি কারাগারে আটক লেবানিজ বন্দিদের মুক্তির দাবি জানায়।
এই ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর ডুবুরি রবার্ট স্টেথেমকে হত্যা করা হয়। শেষ পর্যন্ত জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হলেও ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
ইজিপ্টএয়ার ৬৪৮: উদ্ধার অভিযানই হয়ে উঠল রক্তক্ষয়ী
১৯৮৫ সালের নভেম্বর। এথেন্স থেকে কায়রোগামী ইজিপ্টএয়ার ৬৪৮ ফ্লাইট ছিনতাই করে মাল্টায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ছিনতাইকারীরা যাত্রীদের জিম্মি করে বিমানটি মাল্টা থেকে জ্বালানি নিয়ে চলে যাওয়ার দাবি জানায়। দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন যাত্রীকে গুলি করে বিমান থেকে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর মিশরীয় কমান্ডোরা বিমানটিতে অভিযান চালায়। গুলি ও গ্রেনেডের বিস্ফোরণে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন নিহত হন। সমসাময়িক মার্কিন সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটিকে সেই সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান ছিনতাই ও উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
ঘটনাটি একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে আনে—জিম্মি উদ্ধারের সামরিক অভিযানও কখনো কখনো ব্যাপক প্রাণহানিতে পরিণত হতে পারে।
কান্দাহার: পাঁচ দিনের জিম্মি সংকট
১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাঠমান্ডু থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের ৮১৪ নম্বর ফ্লাইট ছিনতাই করা হয়।
বিমানটি প্রথমে অমৃতসর, লাহোর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারে পৌঁছায়। সেখানে তালেবান-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানটি কয়েক দিন অবস্থান করে।
ভারত সরকারের নথি অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা শেষ পর্যন্ত তিনজন বন্দি—মাসুদ আজহার, ওমর শেখ এবং মুস্তাক আহমেদ জারগর—মুক্তির বিনিময়ে জিম্মিদের ছেড়ে দেয়। একজন যাত্রী নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনা শুধু একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না; পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে।
আকাশে বোমা: যখন ছিনতাই ছাড়াই বিমান হয়ে উঠল মৃত্যুফাঁদ
বিমান সন্ত্রাসের ইতিহাস শুধু ছিনতাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো বিমানকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা হয়েছে, যার পরিণতি ছিল আরও ভয়াবহ।
এয়ার ইন্ডিয়া ১৮২
১৯৮৫ সালের ২৩ জুন এয়ার ইন্ডিয়া ১৮২ ফ্লাইটটি আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর বিস্ফোরিত হয়। বিমানে থাকা ৩২৯ জনের সবাই নিহত হন।
তদন্তে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রপন্থীদের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। কানাডার ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান সন্ত্রাসের ঘটনাগুলোর একটি ছিল।
লকারবি
১৯৮৮ সালের ২১ ডিসেম্বর স্কটল্যান্ডের লকারবির ওপর প্যান অ্যাম ১০৩ বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়। বিমানে থাকা ২৫৯ জনের পাশাপাশি মাটিতে আরও ১১ জন নিহত হন। মোট প্রাণহানি দাঁড়ায় ২৭০।
বিমানটি আকাশেই ভেঙে পড়ে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে লকারবির বসতিপূর্ণ এলাকায়।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিস্ফোরক শনাক্তকরণ ও লাগেজ নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
৯/১১: বিমান ছিনতাইয়ের সংজ্ঞাই বদলে গেল
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়।
দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত করে। তৃতীয়টি পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ৯৩-এর যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে বিধ্বস্ত হয়।
সেই দিন বিমান ছিনতাই আর শুধু জিম্মি করে দাবি আদায়ের কৌশল থাকেনি; বিমানকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ভয়াবহ সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়।
এরপর ককপিটের দরজা শক্তিশালী করা, যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ বিশ্বব্যাপী বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অদ্ভুত এক ছিনতাই
বিমান ছিনতাইয়ের ইতিহাসে এমন ঘটনাও আছে, যার উদ্দেশ্য ছিল অর্থ বা বন্দি মুক্তি নয়—মানবিক সহায়তা আদায়।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর প্যারিসের অরলি বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭২০-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন ২৮ বছর বয়সী ফরাসি নাগরিক জ্যাঁ ক্যা।
ঐতিহাসিক নথি ও সমসাময়িক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নিজেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াইরত শক্তির সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে বিমানটিতে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের জিম্মি করেন। তাঁর হাতে ছিল পিস্তল এবং একটি ব্রিফকেস, যেটিতে বোমা থাকার দাবি করেছিলেন তিনি।
ক্যার দাবি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের জন্য ২০ টন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাতে হবে। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। শেষ পর্যন্ত ফরাসি পুলিশ বিমানটি ঘিরে ফেলে এবং ক্যাকে আটক করে।
ফরাসি সংবাদপত্র লে মোঁদ-এর তৎকালীন প্রতিবেদনে তাঁর ২০ টন ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রীর দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তী বর্ণনায় বলা হয়েছে, তাঁর দাবির পর বাংলাদেশের জন্য ওষুধ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ‘ঠিক ২০ টন ত্রাণসামগ্রী ওই বিমানেই বাংলাদেশে পৌঁছেছিল’—এই দাবিটি সরাসরি নিশ্চিত করার মতো শক্ত প্রাথমিক সূত্র পাওয়া যায় না। বরং সমসাময়িক ও পরবর্তী বর্ণনায় এক টন ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথাও পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, জ্যাঁ ক্যার ঘটনাটি ইতিহাসে এক অস্বাভাবিক দৃষ্টান্ত—একজন ব্যক্তি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাসামগ্রী আদায়ের দাবিতে।