কাশুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ পাকিস্তানি নিহত, আহত ১

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাশুর জেলার ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে বিএসএফের গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান। শুক্রবারের এ ঘটনায় দুই দেশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে।

রেডিও পাকিস্তান নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নিহত ও আহত তিনজনই কাশুরের লাধার গ্রামের বাসিন্দা। পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, তারা সীমান্তের একটি পিলারের কয়েক কদম সামনে যাওয়ার পর বিএসএফ সদস্যরা কোনো সতর্কতা ছাড়াই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।

সূত্রটি আরও দাবি করেছে, তিনজনই নিরস্ত্র ছিলেন এবং কেউই সীমান্তের বেড়া অতিক্রমের চেষ্টা করেননি। নিহত দুজনকে আজমত রাসুল ও মোহসিন জুট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য, এ গুলির ঘটনা ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে চলমান চুক্তি ও নির্ধারিত মানসম্মত কার্যপদ্ধতির লঙ্ঘন। পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমও ঘটনাটিকে একইভাবে উপস্থাপন করেছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বিএসএফ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, পাঞ্জাবের তারন তারান এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর বিএসএফ সদস্যরা কথিত অনুপ্রবেশকারীদের থামতে সতর্ক করেন। তাদের দাবি, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা ভারতের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় গুলি চালানো হয়।

ভারতীয় প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় তখনও নিশ্চিত করা হয়নি এবং ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছিল বলে জানানো হয়েছে। বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশের মধ্যে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আবারও সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। এর এক দিন আগে কাশ্মীরে একজন সাবেক পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে জঙ্গি হিসেবে হত্যার দাবি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে আসে। পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা ভারতীয় দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে ওই ব্যক্তিকে সংবাদ সম্মেলনে জীবিত অবস্থায় হাজির করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাশুরের ঘটনাটির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো একক বিবরণ পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানি সূত্র বলছে, নিহতরা নিরস্ত্র স্থানীয় বাসিন্দা। অন্যদিকে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে, তারা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।

দুই পক্ষের এই ভিন্ন বর্ণনার কারণে ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিশেষ করে তারা ঠিক কোথায় অবস্থান করছিলেন এবং বিএসএফ কেন গুলি চালায় তা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সীমান্তবর্তী এলাকায় বেসামরিক মানুষের চলাচল নিয়ে এমন ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তবে শুক্রবারের ঘটনার পর ভারতীয় বা পাকিস্তানি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ তদন্ত বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত