এমপিওভুক্তির নামে শিক্ষকের কাছ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শিক্ষককে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করে বেতন-ভাতা চালু করে দেওয়ার আশ্বাসে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নন্দকুমার গার্লস হাইস্কুলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা আকরাম উদ্দিন রনির বিরুদ্ধে। টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আকরাম উদ্দিন রনি হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন। অভিযোগকারী লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস ওই বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক। 

লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের দাবি, ২০২০ সালের ১৪ জুন তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বিদ্যালয়টি জুনিয়র পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে যোগদানের পর থেকে তিনি কোনো বেতন-ভাতা বা এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন না। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস ও রেহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাস তাকে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি আকরাম উদ্দিন রনিকে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলা হয়।

লক্ষ্মণ বলেন, ‘পরে আকরাম উদ্দিনের বাসায় গেলে এমপিওভুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ২০২৫ সালের ১ মে এক লাখ এবং ৬ জুন চার লাখ টাকা নেন তিনি। টাকা দেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন। টাকা লেনদেনের ভিডিও তার কাছে রয়েছে।’ এ ছাড়া ফাইল পাঠানো ও তদবিরের কথা বলে সাগর চন্দ্র দাস ও জগদীশ চন্দ্র দাস পৃথকভাবে আরও ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। চাকরিতে নিয়োগের সময়ও প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীরা দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস।

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা দেওয়ার প্রায় এক মাস পর তার এমপিওভুক্তির ফাইল বাতিল হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার ৯.৪ অনুচ্ছেদের ‘ক’ অনুযায়ী তার পদটি মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করার সুযোগ নেই। এরপর টাকা ফেরত চাইলে জগদীশ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ফেরত পেলেও আকরাম উদ্দিন রনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তাকে চাকরিচ্যুত ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকও বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলেন, লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। একজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করার পর এমপিওভুক্তির আশ্বাসে টাকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অভিযোগের বিষয়ে নন্দকুমার গার্লস হাইস্কুলের সাবেক সভাপতি আকরাম উদ্দিন রনি জানান, তিনি এমপিওভুক্তির বিষয়ে শুরুতে কিছুই জানতেন না। তিনি বলেন, ‘তারা কাগজপত্র নিয়ে এসে আমাকে বলেছে, ফাইলে স্বাক্ষর করে দিলে তার বেতন-ভাতা চালু হবে। এর জন্য বিভিন্ন খাতে খরচ আছে। তখন সে যে টাকা দিয়েছে, আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষকসহ সবাইকে ভাগে ভাগে দিয়ে দিয়েছি।’ তবে কার কাছে কত টাকা দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসকে নিষেধ করেছি এ বিষয়ে কোনো টাকা-পয়সা খরচ না করতে। কিন্তু সে নিজের মতো করে এসব কাজ করেছে। আমি কোনো টাকা-পয়সা গ্রহণ করিনি। সে সভাপতিকে টাকা দেওয়ার সময় আমাকে ডেকে নিয়ে গেছে। এর বাইরে আমি কিছুই জানি না।’

এ বিষয়ে নন্দকুমার গার্লস হাইস্কুলের বর্তমান সভাপতি মো. আবু ছায়েদ এমরান বলেন, ‘নিয়োগকালীন সময় থেকে লক্ষ্মণকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিরা। এখন যাইহোক ভুক্তভোগী শিক্ষক লক্ষ্মণ দাসের দেওয়া টাকাগুলো ফেরত পাওয়া উচিত।’

জেএম
আরও পড়ুন