ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের সামরিক সমাধান নেই: তেহরান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। রোববার বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও সংঘাত নিরসনে দুই পক্ষের কার্যকর আলোচনাই একমাত্র পথ।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রুদেশগুলো যদি আবার নতুন করে সামরিক পথ বেছে নেয়, তবে তেহরানের জবাব হবে আগের চেয়েও বিধ্বংসী। একইসঙ্গে কোনো নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপ ইরানকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।

এদিকে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সুরাহা হয়নি। যার ফলে ওয়াশিংটন এখন সামরিক আক্রমণের তীব্রতা কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে দুদেশের উত্তেজনার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই নৌপথে সম্প্রতি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে আবারও একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরে পাল্টা অবরোধ দিয়ে কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের বৈঠকের ফাঁকে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে সাতটি পূর্বশর্ত জমা দিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দেওয়া।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও তিনি পরবর্তীতে আলোচনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন সামরিক অভিযানের পথও খোলা রেখেছেন।

বর্তমানে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি করছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া থেকে তেল স্থাপনা রক্ষায় সৌদি আরব ও কাতারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হয়েছে।

এছাড়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে থাকা দুটি রণতরী বহরের সঙ্গে এটি যুক্ত হতে যাচ্ছে।

সূত্র: এএফপি

এইচএন
আরও পড়ুন