ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

প্রথম ধাপে লুলাকে হারিয়ে চমক দেখালেন বলসোনারোর ছেলে

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপে বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভাকে হারিয়ে জয়লাভ করেছেন ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট কোনো প্রার্থীই পাননি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর এই দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সিদ্ধান্তসূচক ‘রান-অফ’ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো হলেন সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র। গত নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করার অপরাধে জায়ার বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

নির্বাচনী লড়াইটি ছিল অত্যন্ত তীব্র। ভোটের ফলাফলে ৯৮.৮১ শতাংশ গণনা শেষে দেখা যায়, বলসোনারো পেয়েছেন ৪৭.২৪ শতাংশ ভোট এবং লুলার ঝুলিতে পড়েছে ৪৪.৯১ শতাংশ ভোট। ফ্লাভিও বলসোনারোর এই ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো। প্রথম ধাপে বাদ পড়া বাকি প্রার্থীরা মূলত ডানপন্থী হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের লড়াইয়ে বলসোনারোর জয়ের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভোট দেওয়ার পর ৮০ বছর বয়সী লুলা দ্য সিলভা সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন মূলত ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘বর্বরতা’র মধ্যকার লড়াই। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি ব্রাজিলের জনগণকে ‘মুক্ত’ করতে চান।

প্রার্থী ও মূল নির্বাচনী ইস্যু

লুলা ও বলসোনারো ব্রাজিলীয় রাজনীতির দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। এই নির্বাচন দেশকে চরমভাবে বিভক্ত করেছে, যেখানে সার্বভৌমত্ব, অপরাধ, অর্থনীতি এবং দুর্নীতি ছিল ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

লুলা দরিদ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল, স্বল্প আয়ের মানুষ, ক্যাথলিক এবং নারী ভোটারদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। ২০০২, ২০০৬ এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর এবার চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন তিনি।

অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো দক্ষিণাঞ্চল, ধনী ভোটার এবং ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানদের মধ্যে জনপ্রিয়। তিনি নির্বাচিত হলে তার বাবা এবং ৮ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িত সমর্থকদের সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তার মা মিশেল বলসোনারোও রবিবারের নির্বাচনে সিনেটর হিসেবে জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল ব্যাপক দুর্নীতি, সড়ক অপরাধ ও অর্থমন্দা। এক কারাবন্দী ব্যাংক কর্মকর্তার বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি এই নির্বাচনে দুর্নীতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে, যেখানে বলসোনারোর পাশাপাশি লুলার ঘনিষ্ঠদের নামও জড়িয়ে পড়ে। অপরাধ দমনে বলসোনারো গ্যাংগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা এবং এল সালভাদরের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে লুলা সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি ‘বোলসা ফামিলিয়া’র জোর দিয়েছেন, যা লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল সম্পর্ক ও বৈশ্বিক প্রভাব

লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশেই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অনুসারী ডানপন্থী সরকার নির্বাচিত হয়েছে। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ও অর্থনীতি ব্রাজিলও সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নির্ধারণ করবে এই রান-অফ ভোট।

নির্বাচনী প্রচারণায় লুলা দেশের ‘সার্বভৌমত্ব’ রক্ষা ও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো জয়ী হলে ব্রাজিলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করবে এবং তাদের ‘শিল্ড অব আমেরিকাস’ জোটে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি চীনের সঙ্গেও ‘অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত’ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কারণ চীন এখন ব্রাজিলের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

সূত্র: বিবিসি

ওয়াইএ
আরও পড়ুন