'যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামেই বোঝা যায় হরমুজ খোলা না বন্ধ'

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

হরমুজ প্রণালি খোলা নাকি বন্ধ, তা মার্কিন কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দামের সূচকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের অধিবেশনে পূর্বনির্ধারিত আলোচনার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নিকজাদ বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যের চেয়ে দেশটির জ্বালানির দামের ওঠানামাই প্রকৃত পরিস্থিতির বেশি নির্ভরযোগ্য ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের এই আইনপ্রণেতা বলেন, কথার ফুলঝুরি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যায় না। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত পরাশক্তি হওয়ার দাবির বিপরীতে বাস্তবতা নির্ধারিত হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, বক্তব্য বা প্রচারণায় নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে নিকজাদ বলেন, ইরানের জনগণের দৃঢ় মনোবল ও অটল বিশ্বাসের কাছে যুক্তরাষ্ট্র যে পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে, তা স্বীকার করতে না চাওয়ার কারণেই ওয়াশিংটন এমন বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিগুলোকে তাঁর হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গও টেনে আনেন নিকজাদ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে নিজেদের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশটিকে শক্তিশালী অবস্থায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে সেখান থেকে সরে যেতে হয়েছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ১০ হাজার মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩১ হাজার আহত হয়েছে।

ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির বিষয়ে নিকজাদ বলেন, এসব হুমকির মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং দেশটির নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। মাঠপর্যায়ে এসব হুমকির কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালালে তার জবাব দেওয়ার জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান নিকজাদ। তিনি বলেন, নতুন কোনো হামলা হলে ইরানের প্রতিক্রিয়া আগের চেয়েও দৃঢ়, ব্যাপক ও কঠোর হবে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন