যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো ‘ভুল হিসাবের’ জবাব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কঠোর ও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো ‘ভুল হিসাবের’ অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি লেখেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তার জবাব হবে তারা অতীতে যা দেখেছে তার চেয়েও ‘আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক’।
ইরানি এই আইনপ্রণেতার হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন হামলা হলে এবার আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালালে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় শুধু মার্কিন সম্পদ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কিছু স্থাপনাও বিবেচনায় আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একই সময়ে ইরান কূটনৈতিক পথও খোলা রাখছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং সংঘাতের অবসান নিয়ে তেহরান কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ পুনরায় খুলতে হলে তাদের নির্ধারিত কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধানের সর্বশেষ বক্তব্যে অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ বা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করা হয়নি। তার বক্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি কঠোর রাজনৈতিক ও সামরিক সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে।
এর আগে ইরানের সামরিক নেতৃত্বও সতর্ক করে বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি ৫ অক্টোবর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নিলে তেহরান মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে সরাসরি ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
ফলে ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে যেমন সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে বর্তমান উত্তেজনা আরও বাড়বে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে তা প্রশমিত হবে।
শত্রু গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেই শাস্তি: ইরানের পার্লামেন্ট
২০ হাজার টাকা করে ব্যবসায়িক অনুদান পাবেন ১৪৭২ নারী