শত্রুপক্ষের হুমকি দেখা দিলে ইরান আগাম সামরিক অভিযান চালাবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি বলেন, এমন কোনো হুমকি তৈরি হলে আগেও যেভাবে ইরান আগাম অভিযান চালিয়েছে, এবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সম্ভাব্য সেই অভিযান হবে আরও বিধ্বংসী, বিস্তৃত, সিদ্ধান্তমূলক ও দ্রুত।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে এবং শত্রুর দুর্বলতাগুলো আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।
আকরামিনিয়া বলেন, বর্তমানে ইরানের সেনাবাহিনীর হাতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে এবং সরঞ্জামের দিক থেকে বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সাত মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সেনাবাহিনী প্রতিদিনই সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, শত্রুর দুর্বলতা সম্পর্কে এখন ইরানের আরও স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাও উন্নত হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে জানিয়ে আকরামিনিয়া বলেন, একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডারও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তবে শুধু সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েই যুদ্ধের ফল নির্ধারিত হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইরানের স্থল ও নৌবাহিনীর প্রতিরোধ সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র।
আকরামিনিয়া বলেন, অন্য কোনো দেশের সহায়তার ওপর নির্ভর না করেই বড় একটি সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ইরান ইতোমধ্যে দেখিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের মুখে কোনো দেশের সহায়তা ছাড়াই ইরান সাহস ও শক্তির পরিচয় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের পর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তার দাবি, এতদিন ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃত ছিল; এখন দেশটি আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারবে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, এই যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে ইরান বিশেষ অবস্থান অর্জন করবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সেই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করা সম্ভব হবে।
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ শুরু করে। ১২ দিন ধরে চলা ওই সংঘাত ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা অভিযানের পর শেষ হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা সামরিক অভিযান শুরু হয়, যা এপ্রিলের শুরুতে থামার আগে ৪০ দিন স্থায়ী হয়। উভয় সংঘাতেই ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা অভিযানের মুখে যুদ্ধবিরতিতে যেতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় যুদ্ধের শুরুর দিক থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপরও ইরান শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি
বাস্তুচ্যুতদের জন্য হিজবুল্লাহকে ইরানের ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা
ফ্রান্সে বিক্ষোভে শিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন, স্টান গ্রেনেড ব্যবহার স্থগিত
প্রতিরোধ ফ্রন্টের পাশে থাকবে ইরান: জেনারেল আবদোল্লাহি