ইরানি হামলায় কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি ছাড়তে বাধ্য হয় সেনারা: সিবিএস

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ এএম

যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প বুহরিং ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল মার্কিন সেনারা। নতুন পাওয়া ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়ে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সিবিএস-এর হাতে আসা ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে এসব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে হামলা

সিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনজন মার্কিন সেনা দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের এফ-৫ যুদ্ধবিমানও ব্যবহৃত হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন সেনা সিবিএস-কে বলেন, “তারা আমাদের ওপর ভয়াবহ আঘাত হেনেছিল। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।”

ওই সেনার দাবি, ঘাঁটিতে অনেক সাহসী সেনা অবস্থান করে প্রতিরোধ চালিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ওই সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতেন না। একপর্যায়ে সেনাদের ঘাঁটি ছেড়ে যেতে হয়।

গোলাবারুদের সংকট

হামলার সময় ক্যাম্প বুহরিংয়ের প্রতিরক্ষায় থাকা মার্কিন সেনারা .৫০ ক্যালিবারের গোলাবারুদের সংকটের মুখেও পড়েছিলেন বলে সিবিএস জানিয়েছে।

এ ছাড়া প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ লজিস্টিক কর্মকর্তা সিবিএস-এর কাছে গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর ফলে ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের ওপর শুধু সরাসরি হামলার চাপই ছিল না, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

৭ হাজার সেনার বড় অংশ আগেই সরানো হয়েছিল

ক্যাম্প বুহরিংয়ে সাধারণ সময়ে প্রায় ৭ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করলেও যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের অধিকাংশকেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তবে শতাধিক সেনা তখনও ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। ইরানি হামলার তীব্রতা বাড়ার পর শেষ পর্যন্ত তারাও ঘাঁটি ছেড়ে কুয়েতের মরুভূমি এলাকায় চলে যান।

সেখানে মার্কিন সেনারা নতুন করে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস বা সামনের সারির সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেন।

কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি

সিবিএস জানিয়েছে, ক্যাম্প বুহরিং এবং পরে মরুভূমিতে স্থাপন করা অবস্থানগুলোতে শত্রুপক্ষের গোলাবর্ষণে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হননি।

তবে হামলায় ঘাঁটির স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সিবিএস-এর এই প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কুয়েত দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও লজিস্টিক সুবিধা রয়েছে। ফলে ক্যাম্প বুহরিংয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলা এবং সেখান থেকে সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা মোকাবিলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, গোলাবারুদের মজুত এবং বিকল্প অবস্থানে দ্রুত সেনা সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা কতটা কার্যকর—এ ঘটনাকে ঘিরে সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

তবে সিবিএস-এর প্রতিবেদনে উঠে আসা ইরানি এফ-৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের দাবিসহ হামলার কিছু বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ঘাঁটি ত্যাগের সামরিক সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কেও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

ফলে ক্যাম্প বুহরিংয়ের ঘটনাটি ইরান-মার্কিন সংঘাতে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সামরিক ও কৌশলগত পূর্ণ চিত্র পেতে আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন