নাইজেরিয়ায় পৃথক দুটি হামলায় ইসলামপন্থি যোদ্ধা, সেনাসদস্য ও স্বর্ণখনির শ্রমিকসহ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যে সেনা অবস্থানে হামলা চালানো ইসলামিক স্টেট-ঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ জনের বেশি নিহত হয়েছে। এ সময় কয়েকজন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র। তবে সেনাবাহিনীর হতাহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপর ঘটনায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীদের হামলায় ২৫ জনের বেশি সেনা এবং শতাধিক ক্ষুদ্র পরিসরের স্বর্ণখনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্র, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক অভিযানের পরও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সেখানে সক্রিয় রয়েছে সশস্ত্র দস্যু ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠী। আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় নাইজেরিয়ার নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুকাওয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর ১০১ বিশেষ বাহিনী ব্যাটালিয়নের অবস্থানে চারদিক থেকে হামলা চালানো হয়। এলাকাটি লেক চাদের কাছে অবস্থিত। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিমান সহায়তা নিয়ে পাল্টা অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করা হয়। অপারেশন হাদিন কাইয়ের ভারপ্রাপ্ত সামরিক তথ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ গনি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৫ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী অভিযানে ছয়টি একে-৪৭ রাইফেল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানায় সেনাবাহিনী।
সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘর্ষে কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে তাদের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি। সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা বেসামরিক যৌথ টাস্কফোর্সের এক সদস্য জানান, তাদের সংগঠনেরও তিনজনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী বলেছে, হামলাকারীরা যাতে পুনরায় সংগঠিত হয়ে নতুন হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে জামফারা রাজ্যের হামলাটি দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র দস্যুদের তৎপরতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতিও ওই অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারামের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সংগঠনটির একটি শাখা ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সও ওই অঞ্চলে সক্রিয়। সামরিক অভিযানের পরও তাদের হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স
ইরানে হিজবুল্লাহ'র নিয়োগ নেটওয়ার্ক শনাক্ত
বিলুপ্ত হলো ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’
নূহ (আ.)-এর নৌকার সন্ধানে গিয়ে যা পেলেন গবেষকরা