নূহ (আ.)-এর নৌকার সন্ধানে গিয়ে যা পেলেন গবেষকরা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

হাজার হাজার বছর ধরে মানবসভ্যতার অন্যতম আলোচিত কাহিনি- মহাপ্লাবন, নূহ (আ.) এবং তার নৌকা। ধর্মীয় বর্ণনায় নূহ (আ.)-এর নৌকা ভয়াবহ প্লাবনের সময় তার পরিবার ও প্রাণীদের রক্ষা করেছিল। সেই নৌকার অস্তিত্ব নিয়ে বহু শতাব্দী ধরে মানুষের কৌতূহল থাকলেও আধুনিক যুগে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের একটি অদ্ভুত নৌকা-আকৃতির ভূ-গঠন এই অনুসন্ধানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

আরারাত পর্বতের কাছে অবস্থিত দুরুপিনার Formation গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নূহ (আ.)-এর নৌকা নিয়ে বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র। ২০২৬ সালে সেখানে নতুন করে শুরু হয়েছে ভূতাত্ত্বিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান। এবার শুধু ওপর থেকে ছবি বা রাডার স্ক্যান নয়; গভীর মাটি ও কোর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কিছু অস্বাভাবিক তথ্যও উঠে এসেছে। তবে সবকিছুর পরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর এখনো মেলেনি, দুরুপিনার কি সত্যিই নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ আছে?

৬০ ফুট গভীরে গেল গবেষকদের ড্রিল
২০২৬ সালের গবেষণাটি পরিচালিত হচ্ছে তুরস্কের Sivas Cumhuriyet University-এর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. Cenker Atila-এর নেতৃত্বে। প্রকল্পটির সঙ্গে Noah’s Ark Scans-ও যুক্ত রয়েছে এবং তুর্কি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ জন গবেষক ও বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে।

এবারের অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গভীর কোর ড্রিলিং। দুরুপিনার কাঠামোর ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন জায়গায় ড্রিল করে প্রায় ১৮ মিটার বা ৬০ ফুট পর্যন্ত গভীরতা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভেতরের নমুনার সঙ্গে বাইরের নমুনা তুলনা করে দেখা হচ্ছে- কাঠামোটির উপাদান আশপাশের প্রাকৃতিক ভূস্তরের সঙ্গে একই কি না।

প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রিউ জোন্সের দাবি, ড্রিলিংয়ের সময় ভেতরের অংশে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ধারাবাহিক কঠিন বেডরক বা চুনাপাথরের স্তর পাওয়া যায়নি, যা দিয়ে পুরো কাঠামোটিকে সরাসরি একটি শক্ত প্রাকৃতিক পাথরের গঠন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। বরং বিভিন্ন স্তরে মাটি, পলি ও জৈব পদার্থের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে গবেষক দল জানিয়েছে। তবে এই পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ নমুনাগুলোর বিস্তারিত খনিজ, অণুবীক্ষণিক ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

ভেতরের মাটিতে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি কার্বন
২০২৬ সালের গবেষণার সবচেয়ে আলোচিত ফলগুলোর একটি হলো মাটির কার্বন মাত্রার পার্থক্য। Sivas Cumhuriyet University-সংশ্লিষ্ট গবেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুরুপিনার কাঠামোর ভেতর থেকে নেওয়া মাটির নমুনায় বাইরের নিয়ন্ত্রণ নমুনার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি কার্বন পাওয়া গেছে। গবেষকরা মনে করছেন, এই পার্থক্য সেখানে বেশি পরিমাণ জৈব পদার্থ থাকার সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

নূহ (আ.)-এর নৌকার অনুসন্ধানে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়ার কারণ হলো- যদি কোনো বিশাল কাঠের কাঠামো দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তাহলে তার অবশিষ্ট জৈব উপাদান মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে কাঠ বা অন্য কোনো জৈব পদার্থের উপস্থিতির সম্ভাবনা পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সতর্কতা রয়েছে। মাটিতে বেশি কার্বন পাওয়া মানেই সেখানে প্রাচীন কাঠের নৌকা ছিল, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও কোনো নির্দিষ্ট স্থানের মাটিতে বেশি জৈব পদার্থ জমতে পারে। ফলে কার্বনের পার্থক্যটি নৌকার প্রমাণ, নাকি ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশের ফল তা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা জরুরি, এখানে “৪০ শতাংশ বেশি কার্বন” বলতে কার্বনের পরিমাণগত পার্থক্য বোঝানো হচ্ছে; এটি কোনোভাবেই নৌকার বয়স বা কাঠের বয়স নির্ধারণ করে না।

ড্রিলের বিট ভেঙে যাওয়ার কারণ
গবেষণার আরেকটি ঘটনা কৌতূহল বাড়িয়েছে। একটি ড্রিলিং পয়েন্টে মাটির প্রায় ৪ থেকে ৫ মিটার নিচে গিয়ে ড্রিল একটি অত্যন্ত শক্ত স্তরে আঘাত করে এবং ড্রিল বিট ভেঙে যায় বলে গবেষণা দল জানিয়েছে। অ্যান্ড্রু জোন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, সেটি কী উপাদানে তৈরি তা এখনো জানা যায়নি। গবেষকরা সম্ভাবনা হিসেবে শক্ত খনিজায়িত বা পেট্রিফাইড কাঠের কথাও তুলেছেন। তবে এটিও প্রমাণ নয়। কারণ শক্ত কোনো স্তর ভেঙে ফেলার জন্য ড্রিল বিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানেই সেটি কাঠ বা মানুষের তৈরি কোনো কাঠামো, এমনটি বলা যায় না। পাথর, খনিজায়িত স্তর বা অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক উপাদানও একই ধরনের প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে। তাই এই স্তরের প্রকৃতি নির্ধারণে খনিজ বিশ্লেষণ, মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষাগারভিত্তিক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা
২০২৬ সালের গবেষণাটি শুধু কয়েকটি ড্রিলিংয়ের ওপর নির্ভর করছে না। গবেষকরা দুরুপিনার কাঠামো এবং আশপাশের এলাকায় প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নমুনা বিভিন্ন জায়গা থেকে নেওয়া হয়েছে, যাতে কাঠামোর ভেতর ও বাইরের মাটির বৈশিষ্ট্য তুলনা করা যায়।

এই পদ্ধতির গুরুত্ব হলো, একটি মাত্র নমুনার ওপর নির্ভর না করে বড় পরিসরের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদি ভেতরের মাটিতে নিয়মিতভাবে একই ধরনের রাসায়নিক ও জৈবিক পার্থক্য পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি আরও গভীর গবেষণার দাবি রাখবে। অন্যদিকে, যদি নমুনাগুলোর পার্থক্য স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ, পানি জমা, পলি বা মাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, তাহলে নৌকার দাবির পক্ষে প্রমাণ দুর্বল হয়ে যাবে।

আশপাশে পাওয়া গেছে মৃৎপাত্রের টুকরো
অনুসন্ধানের সময় দুরুপিনার এলাকার আশপাশে কিছু মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশও পাওয়া গেছে। বিষয়টি নতুন করে প্রত্নতাত্ত্বিক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে এসব টুকরোর নির্দিষ্ট বয়স এখনো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমনকি এগুলো মূল নৌকা-আকৃতির কাঠামোর ভেতরে পাওয়া গেছে, এমন দাবিও করা যাচ্ছে না। গবেষকদের একটি সম্ভাবনা হলো, এসব মৃৎপাত্র আশপাশের এলাকায় প্রাচীন মানুষের বসবাস বা যাতায়াতের ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু কোনো এলাকায় প্রাচীন মানুষের বসতি ছিল- এটি প্রমাণ করলেও সেখানেই নূহ (আ.)-এর নৌকা ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মৃৎপাত্রের সুনির্দিষ্ট বয়স, উৎস ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

রাডারে কি দেখা গেছে ‘কক্ষ’ বা ‘করিডোর’?
২০২৬ সালের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে ভূগর্ভস্থ রাডার প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষক দল কিছু সরলরেখা, কোণ এবং ভূগর্ভস্থ অস্বাভাবিকতার কথা জানিয়েছে। তাদের কেউ কেউ এগুলোকে সম্ভাব্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখছেন। কিন্তু ভূ-রাডারে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেই সেটিকে মানুষের তৈরি ঘর, করিডোর বা নৌকার অভ্যন্তরীণ কাঠামো বলা যায় না। মাটির আর্দ্রতা, বিভিন্ন ধরনের পলি, পাথরের স্তর, ফাটল কিংবা ভূগর্ভস্থ ফাঁপা অংশ থেকেও রাডারে অস্বাভাবিক প্রতিফলন তৈরি হতে পারে। সুতরাং রাডারের তথ্যকে আপাতত অনুসন্ধানের সূত্র হিসেবে দেখা নিরাপদ, চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে নয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- এটি কি প্রাকৃতিক ভূ-গঠন?
দুরুপিনার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ১৯৫৯ সালে তুর্কি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ইলহান দুরুপিনার আকাশ থেকে তোলা ছবিতে নৌকার মতো আকৃতির এই গঠনটি শনাক্ত করেন। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫৭ মিটার বা ৫১৫ ফুট বলে বর্তমান গবেষণা প্রকল্পটি উল্লেখ করে। এরপর থেকেই একদল গবেষক ও অনুসন্ধানকারী এটিকে নূহের নৌকার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে ভূতাত্ত্বিকদের একটি শক্তিশালী ধারা দীর্ঘদিন ধরে এটিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভূ-গঠন হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছে।

১৯৯৬ সালে ভূতাত্ত্বিক Lorence G. Collins ও David Fasold-এর গবেষণায় দুরুপিনারকে একটি দ্বিমুখী নিমজ্জিত ভাঁজ বা “doubly plunging syncline” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তাদের মতে, ভূস্তরের ভাঁজ, ক্ষয় এবং স্থানীয় ভূ-প্রক্রিয়ার কারণে নৌকার মতো আকৃতি তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, দুরুপিনারের অস্বাভাবিক আকৃতি যে নিজেই একটি রহস্য এ নিয়ে বিতর্ক কম। মূল প্রশ্ন হলো, এই আকৃতির পেছনে মানুষের তৈরি কোনো বিশাল কাঠামো রয়েছে কি না।

ধর্মীয় বর্ণনা বনাম প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ
নূহ (আ.)-এর কাহিনি ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদি ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বাইবেলের Genesis-এ নৌকার বর্ণনা রয়েছে। কোরআনেও নূহ (আ.) ও মহাপ্লাবনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তবে ধর্মীয় বর্ণনার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ভূ-গঠনকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে শনাক্ত করা দুটি ভিন্ন বিষয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- বাইবেলের বর্ণনায় নৌকাটি “আরারাতের পাহাড়সমূহে” থামার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে কোরআনে নৌকার থামার স্থান হিসেবে জুদি (Al-Judi)-র উল্লেখ রয়েছে। দুরুপিনারকে এসব বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা বহু বছর ধরে চলছে, কিন্তু এর পরিচয় বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এবার অপেক্ষা পরীক্ষাগারের ফলের
২০২৬ সালের গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্ভবত এখনো শুরুই হয়নি। মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা মাটি ও কোর নমুনা এখন বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এগুলোতে জৈব পদার্থের প্রকৃতি, খনিজ গঠন, স্তরবিন্যাস, অণুবীক্ষণিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনে বয়স নির্ধারণের পরীক্ষা করা হবে। গবেষকরা শীতকালজুড়ে এসব পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছেন; পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রতিবেদন ২০২৭ সালে প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই পরীক্ষার ফলই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যদি কোনো নমুনায় সুস্পষ্টভাবে প্রাচীন মানুষের ব্যবহৃত কাঠের কাঠামোর বৈশিষ্ট্য, মানুষের তৈরি উপাদান এবং উপযুক্ত কালপর্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তাহলে দুরুপিনার নিয়ে বিতর্ক নতুন পর্যায়ে যেতে পারে। অন্যদিকে যদি কোর নমুনায় স্বাভাবিকভাবে ভাঁজ হওয়া ভূস্তরের ধারাবাহিকতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রাকৃতিক ভূ-গঠনের ব্যাখ্যাই আরও শক্তিশালী হবে।

নূহ (আ.)-এর নৌকা কি পাওয়া গেছে?
না; এখনো এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ২০২৬ সালের অনুসন্ধান নিঃসন্দেহে দুরুপিনারকে আবার আন্তর্জাতিক আলোচনায় এনেছে। গভীর কোর ড্রিলিং, প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা, ভেতর-বাইরের কার্বনের পার্থক্য, ভূগর্ভস্থ অস্বাভাবিকতা, শক্ত স্তরে ড্রিল বিট ভেঙে যাওয়া এবং আশপাশে মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ সব মিলিয়ে অনুসন্ধানের জন্য নতুন কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু এসবের কোনোটিই এখন পর্যন্ত এককভাবে বা সম্মিলিতভাবে নূহ (আ.)-এর নৌকা শনাক্ত করার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। 

২০২৬ সালের ফলাফলগুলো এখনো মূলত গবেষক দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ; স্বাধীন peer-reviewed বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় এগুলোর পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো হয়নি। তাই দুরুপিনারের গল্পটি আপাতত “নৌকা পাওয়া গেছে” এমন গল্প নয়; বরং একটি ৬০ বছরের পুরোনো রহস্যকে এবার মাটির নিচে গিয়ে পরীক্ষা করার নতুন বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা।

পরীক্ষাগারের ফল যদি সত্যিই কাঠ বা মানুষের তৈরি কোনো প্রাচীন কাঠামোর সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়, তাহলে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে সেটি হবে অসাধারণ আবিষ্কার। আর যদি প্রমাণ করে এটি ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হওয়া একটি নৌকা-আকৃতির গঠন, তাহলেও বহু দশকের রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, নূহ (আ.)-এর নৌকার রহস্যের দরজা এখনো বন্ধ হয়নি, কিন্তু সেটি খোলার চাবি এবার ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পরীক্ষাগারের হাতে।

জেএম
আরও পড়ুন