ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যদের সাহস, ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন।
জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ বার্তা প্রকাশ করে।
বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, নিরাপত্তা সৃষ্টিকর্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত। বড় শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, দুর্গম সীমান্ত, পাহাড়, সমুদ্র, সমতল ও বনাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের এই দায়িত্ব পালনের ফলে সমাজের জনকল্যাণ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি হয়। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব থেকে শুরু করে থানা ও বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের অবদানও তিনি তুলে ধরেন।
মোজতবা খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। তাঁর দাবি, তথাকথিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময়ও বাহিনীটি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থী প্রতিপক্ষ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন স্তরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিন্তু এসব হামলা ও চাপের মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। এমনকি রাস্তায় ও যানবাহনে অবস্থান করেও তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
তবে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বার্তায় বিস্তারিত পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মতো পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও সমাজের ভেতর থেকেই উঠে আসেন। জনগণের আস্থা আরও জোরদার করতে পুলিশ সদস্যদের আচরণে বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ত্যাগ অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তারপরও তাঁরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে জনবল, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশের কাজ আরও কার্যকর ও সহজ করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম উন্নত করতে এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বার্তার শেষাংশে পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বাহিনীর প্রধানসহ সব সদস্যের নিষ্ঠা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন। ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধিতে পুলিশ বাহিনী ভবিষ্যতেও সাফল্য অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ইরানে নতুন হামলার তিন দিনের পরিকল্পনা পেন্টাগনের: নিউইয়র্ক টাইমস
মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আহ্বান, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ৩৮১ ভোট
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১