এলজিইডির উইকেয়ার প্রকল্প 

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এনেছে নতুন গতি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাত সহজকরা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে WeCARE (উইকেয়ার) ফেস-১ আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৭টি বাজার, প্রায় ৯২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সড়ক এবং সংশ্লিষ্ট সেতু-কালভার্টসহ বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। 

প্রকল্পের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সিডব্লিউ-১০ প্যাকেজে প্রায় ১৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক, একটি সেতু, ৩৪টি কালভার্ট এবং একটি গ্রোথ সেন্টার মার্কেট উন্নয়ন করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় উথলী আর এ্যান্ড এইচ মোল্লাবাড়ী-আন্দুলবাড়ীয়া জিসি সড়কের ৬ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার এবং বাঁকা আর এ্যান্ড এইচ আন্দুলবাড়িয়া জিসি সড়কের ৯ দশমিক ৭০১ কিলোমিটার উন্নয়ন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কগুলো আগে যেখানে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত ছিল, উন্নয়নকাজের মাধ্যমে সেগুলো ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সড়কে রোড মার্কিং ও প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজনের ফলে যানবাহন চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশস্ত ও উন্নত সড়ক কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করছে। 

এই উন্নয়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো আন্দুলবাড়ীয়া গ্রোথ সেন্টার মার্কেটের আধুনিকায়ন। পরিকল্পিত ও নান্দনিক নকশায় পুরো বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। এখানে স্লটার হাউস, কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, পৃথক নারী ও পুরুষ টয়লেট, অফিস ভবন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সোলার লাইটিংসহ আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। কম্পোস্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বাজারের জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা তৈরি হয়েছে, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সোলার লাইটিংয়ের মাধ্যমে বাজারে রাতের আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী ও পুরুষ ক্রেতাদের জন্য পৃথক টয়লেটসহ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা বাজারটিকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব করে তুলেছে।

২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় প্রায় ১ দশমিক ৯৮ লাখ মানুষের বসবাস এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৩৫ হাজারের বেশী কৃষক পরিবার রয়েছে। ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টাসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফলের বাণিজ্যিক চাষ এখানে বিস্তৃত। উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও আধুনিক আব্দুলবাড়ীয়া গ্রোথ সেন্টারের মাধ্যমে ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টা, মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দ্রুত বাজার ও আড়তে পৌঁছাচ্ছে। ফলে পরিবহন সময় ও ব্যয় এবং পণ্য নষ্টের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কৃষক, পাইকার, আড়ৎদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাজারসংযোগ আরও কার্যকর হয়েছে। 

চুয়াডাঙ্গা স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীদুজ্জামান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় শ্রমিক ও জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উন্নত সড়ক ও আধুনিক বাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি এসেছে। বাস্তবায়িত সড়ক ও বাজার অবকাঠামোর দৃশ্যমান পরিবর্তনে ও কাজের গুনগতমান নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন