কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইনে আঘাত লেগে অপর একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ট্যাংকারটিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানায়, রোববার বিকেলে ট্যাংকারটি অনুমোদনহীন একটি নৌপথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। এ সময় বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা উপেক্ষা করলে জাহাজটি একটি সমুদ্র মাইনে আঘাত করে। এতে বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।
তবে ট্যাংকারটির নাম, মালিকানা, পতাকাবাহী দেশ এবং হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার বিষয়ে স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য পৃথক সতর্কবার্তাও দিয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী। বাহিনীটি জানিয়েছে, যেসব জাহাজ তাদের নেভিগেশন ও পরিচিতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাবিধি ও চলাচলসংক্রান্ত নিয়মকানুন অমান্য করে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এর আগে শনিবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার সময় একটি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকার সমুদ্র মাইনে আঘাত পেয়ে আগুনে পুড়েছে বলে জানিয়েছিল আইআরজিসি নৌবাহিনী।
বাহিনীটির দাবি, ওই জাহাজটিও অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করে প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা করছিল। ঘটনার আগে জাহাজটির নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল বলেও দাবি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা দূর থেকে আগুন দেখতে পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শনিবার ও রোববারের ঘটনাগুলোতে একই জাহাজ জড়িত কি না, কিংবা পৃথক দুটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে তেল সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। তবে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি ভ্রমণে একাধিক দেশের ‘রেড অ্যালার্ট’
দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি
ঢাকা থেকে ১০ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ৩ হাজার ৪৩১ যাত্রী