মধ্যপ্রাচ্যে সাংবাদিকেরা কীভাবে সংবাদ সংগ্রহ করেন ?

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকতার প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপদে থাকা, দ্বিতীয়টি সত্যের কাছে পৌঁছানো। কোনো ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই সংবাদকর্মীরা জানতে চান- কোথায় হামলা হয়েছে, কারা হতাহত হয়েছেন, কে হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনাটির পেছনে কী রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।

সড়ক বন্ধ, মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত, আকাশে ড্রোন, আর সামরিক বাহিনীর চলাচলে বিধিনিষেধ; সব মিলিয়ে সংবাদ সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি অনেক সময় অকার্যকর হয়ে পড়ে। আবার সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলো নিজেদের বক্তব্য প্রচার করতে চায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর দাবি। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকের কাজ শুধু ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নয়; বরং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মিলিয়ে কী জানা গেছে, কী জানা যায়নি এবং কোন দাবি এখনো যাচাই হয়নি—তা স্পষ্ট করা।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বলছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সুরক্ষাসামগ্রী, জরুরি যোগাযোগ ও নিরাপদে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকা জরুরি। 

১. যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগেই শুরু হয় সংবাদ সংগ্রহ

অনেকের ধারণা, যুদ্ধের খবর সংগ্রহ মানেই বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে বিস্ফোরণের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি সম্প্রচার করা। বাস্তবে সংবাদ সংগ্রহের বড় অংশ শুরু হয় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই। একজন অভিজ্ঞ প্রতিবেদক প্রথমে পরিস্থিতির মানচিত্র বোঝার চেষ্টা করেন। কোন এলাকায় সংঘর্ষ চলছে, কোথায় বেসামরিক মানুষ আটকে পড়েছেন, কোন হাসপাতাল কাজ করছে, যোগাযোগব্যবস্থা সচল কি-না, কোথায় সামরিক বিধিনিষেধ রয়েছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এর পাশাপাশি সাংবাদিকেরা স্থানীয় সহকর্মী, চিকিৎসক, উদ্ধারকর্মী, প্রত্যক্ষদর্শী, মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। কোনো এলাকায় প্রবেশ করা সম্ভব না হলে সেখানকার নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হতে পারে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজের আগে যুদ্ধের পক্ষগুলো, তাদের অবস্থান, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সংঘাতের পটভূমি সম্পর্কে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে দ্রুত সরে আসার ওপরও গুরুত্ব দেয় সংস্থাটি। 

২. ঘটনাস্থলের সাংবাদিক: খবরের প্রথম সারির সাক্ষী

যখন কোনো এলাকায় বিমান হামলা হয়, তখন ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকেরা সরাসরি যা দেখেন, তা সংবাদ সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, উদ্ধারকাজ, আহত মানুষের অবস্থা, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের দৃশ্য ধারণ করেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া মানেই সব তথ্য জানা নয়। কোনো বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখেই সব সময় বলা যায় না, কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি কে নিক্ষেপ করেছে কিংবা হামলার সামরিক উদ্দেশ্য কী ছিল।

এ কারণে সাংবাদিকেরা দৃশ্যমান তথ্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, হাসপাতালের তথ্য, সরকারি বিবৃতি এবং স্বাধীনভাবে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখেন। কোনো তথ্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব না হলে সেটি প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা উচিত। রয়টার্সের সাংবাদিকতা নীতিতে নির্ভুলতা, একাধিক সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং ভুল হলে স্বচ্ছভাবে সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির নীতি অনুযায়ী, দ্রুত প্রকাশের চেয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩. যখন ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব নয়: দূর থেকেই অনুসন্ধান

যুদ্ধের সব এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি থাকে না। কখনো নিরাপত্তার কারণে, কখনো সামরিক বিধিনিষেধে, আবার কখনো বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত থাকায় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। এ অবস্থায় ব্যবহার করা হয় উন্মুক্ত সূত্রভিত্তিক অনুসন্ধান পদ্ধতি, যা পরিচিত ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা OSINT নামে। এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে পাওয়া ছবি, ভিডিও, মানচিত্র, স্যাটেলাইট চিত্র, সরকারি নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর পোস্ট এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।

রয়টার্স ইনস্টিটিউটের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে- গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের সরাসরি প্রবেশে বাধা থাকায় কিছু সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপকরণ, স্যাটেলাইট চিত্র এবং স্থানীয় সূত্রের সাক্ষ্য মিলিয়ে ঘটনা যাচাই করেছেন।

ধরা যাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশিত হলো; যেখানে দাবি করা হচ্ছে- সেটি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সদ্য চালানো বিমান হামলার দৃশ্য। সাংবাদিকেরা তখন কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন: ভিডিওটি প্রথম কে প্রকাশ করেছেন এবং তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন কি-না? ভিডিওর ভবন, রাস্তা, পাহাড় বা অন্য দৃশ্যমান চিহ্ন নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গে মেলে কি না? ভিডিওটি সত্যিই সাম্প্রতিক, না-কি আগের কোনো সংঘাতের? একই ঘটনার অন্য ছবি, ভিডিও বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ পাওয়া যায় কি না? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্বাধীন সূত্রের তথ্যের সঙ্গে ভিডিওটির মিল রয়েছে কি-না? এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না।

৪. পুরোনো ভিডিও, ভুয়া ছবি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফাঁদ

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্যযুদ্ধও সামরিক সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিও নতুন ঘটনার নামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি অন্য দেশের বলে প্রচার করা হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও বাস্তব দৃশ্যের মতো দেখাতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ভিজ্যুয়াল যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ দল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব বেড়েছে।

২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্সের একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের ভিজ্যুয়াল যাচাই দল ছবি ও ভিডিওর উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করে এবং সেগুলোর মেটাডেটা, আবহাওয়ার তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র, ছায়ার দিক, একই ঘটনার অন্য দৃশ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করে। তবে কোনো একটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষাই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।

অর্থাৎ, কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে বলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না। আবার কোনো ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকারী সফটওয়্যারে সন্দেহজনক দেখালেই সেটি নিশ্চিতভাবে ভুয়া—এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায় না। প্রমাণের একাধিক দিক মিলিয়ে বিচার করতে হয়।

৫. একটি খবর নিশ্চিত করতে কতটি সূত্র প্রয়োজন?

যুদ্ধের সময় হতাহতের সংখ্যা, হামলার লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য আসতে পারে। এক পক্ষ দাবি করতে পারে, নির্দিষ্ট সংখ্যক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন; অন্য পক্ষ সেই দাবি অস্বীকার করতে পারে। কোনো সরকারি বিবৃতিতে একটি সংখ্যা দেওয়া হলেও হাসপাতাল বা উদ্ধারকর্মীদের হিসাবে তা ভিন্ন হতে পারে। এ অবস্থায় সাংবাদিকেরা সূত্রের পরিচয়, তথ্য পাওয়ার পদ্ধতি, সূত্রটির ঘটনাটি সরাসরি জানার সুযোগ এবং তার সম্ভাব্য স্বার্থ বিবেচনা করেন।

সব খবরের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সূত্রের কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত দাবি স্বাধীনভাবে সমর্থিত কি-না, তা যাচাই করা জরুরি। একাধিক সংবাদমাধ্যম একই সংবাদ প্রকাশ করলেও তারা যদি সবাই একই মূল সূত্রের ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেটিকে স্বাধীনভাবে একাধিক সূত্রের সমর্থন হিসেবে গণ্য করা যায় না। রয়টার্সের নীতিমালায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তার বিশ্বাসযোগ্যতা, তথ্যের প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং বক্তব্যের উদ্দেশ্য মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। সূত্রের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলে সেই সীমাবদ্ধতা পাঠকের কাছে স্পষ্ট করাও গুরুত্বপূর্ণ। 

৬. যুদ্ধের সংবাদে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা

বিদেশি সংবাদদাতারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পরিচিত মুখ হলেও যুদ্ধের ভেতরে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভাষা, ভূগোল, স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানেন। কোথায় কী ঘটেছে, কোন হাসপাতালে আহতদের নেওয়া হচ্ছে, কোন পরিবার নিখোঁজ স্বজনকে খুঁজছে—এ ধরনের তথ্য সংগ্রহে তাদের অবদান বড়। 

অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার, ক্যামেরাপারসন, অনুবাদক ও চালকেরা আন্তর্জাতিক সংবাদদাতাদের সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। স্থানীয় পরিচিতি তাদের জন্য তথ্য সংগ্রহ সহজ করতে পারে, আবার সংঘাতের পক্ষগুলোর চাপ বা প্রতিশোধের আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে। সিপিজে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনায় স্থানীয় কর্মীসহ পুরো দলের ঝুঁকি মূল্যায়ন, জরুরি যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদে সরে যাওয়ার পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছে। 

৭. সাংবাদিকের হাতে ক্যামেরা, কিন্তু দায়িত্ব মানুষের প্রতি

যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো আহত মানুষকে দেখে সাংবাদিকের সামনে নৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে—তিনি কি ছবি তুলবেন, না-কি সাহায্যের ব্যবস্থা করবেন? এ ক্ষেত্রে নিজের ও দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদে সাহায্য করা সম্ভব হলে এবং অন্য কেউ এগিয়ে না এলে সহায়তা করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে; তবে সাংবাদিকের কাজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক না করে, সেদিকেও নজর রাখতে হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিহত ও আহত মানুষের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং পরিবারের অনুভূতি বিবেচনা করা। কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশে তার পরিবার বা সংশ্লিষ্ট মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে কি-না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সামরিক অবস্থান, আশ্রয়কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট অবস্থান কিংবা চলমান উদ্ধার অভিযানের তথ্য প্রকাশ করেও কখনো মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আরএসএফের নির্দেশনায় সাংবাদিককে সংঘাতের নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করা, উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন সংবাদ পরিবেশন এড়িয়ে চলা এবং পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে সরে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

৮. যুদ্ধ সংবাদদাতার নিরাপত্তা: সাহসের পাশাপাশি প্রস্তুতি

সাহস থাকলেই যুদ্ধক্ষেত্রে নিরাপদে কাজ করা যায় না। প্রয়োজন পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা, প্রশিক্ষণ, সঠিক সরঞ্জাম, জরুরি চিকিৎসার প্রস্তুতি এবং পরিষ্কার যোগাযোগব্যবস্থা। সিপিজে সাংবাদিকদের জন্য শারীরিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়তাসহ বিভিন্ন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। তাদের সুপারিশে ঝুঁকি মূল্যায়ন, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে কাজের প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসার প্রস্তুতি, যোগাযোগের নির্ধারিত সময়সূচি এবং জরুরি স্থানত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো প্রশিক্ষণ বা নির্দেশিকাই শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। 

দীর্ঘ সময় ধরে মৃত্যু, ধ্বংস, আহত শিশু ও শোকাহত পরিবারের দৃশ্য দেখাও সাংবাদিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যুদ্ধ শেষে বিশ্রাম, সহকর্মীদের সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

৯. সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা: দ্রুততা, না নির্ভুলতা?

যুদ্ধের খবরের ক্ষেত্রে প্রথম প্রকাশ করার প্রতিযোগিতা তীব্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজারো মানুষ সেটি দেখতে পারেন। সংবাদমাধ্যমও দ্রুত তথ্য প্রকাশের চাপ অনুভব করে। কিন্তু ভুল তথ্যের মূল্য এখানে অত্যন্ত বেশি। ভুল করে কোনো পক্ষকে হামলার জন্য দায়ী করা, হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলা কিংবা পুরোনো ভিডিওকে নতুন ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা জনমতকে বিভ্রান্ত করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন ভুল মানুষের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো- যা নিশ্চিত, তা স্পষ্টভাবে বলা; যা কোনো পক্ষের দাবি, তা সেই পক্ষের নামে প্রকাশ করা; আর যা যাচাই করা যায়নি, তা যাচাই হয়নি বলে জানানো। পরে ভুল ধরা পড়লে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সংশোধন করাও দায়িত্বের অংশ। রয়টার্সের সাংবাদিকতা নীতিতে নির্ভুলতা, যথাযথ সূত্র উল্লেখ এবং স্বচ্ছ সংশোধনের ওপর এ কারণেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন