ইসরায়েলের হামলাকে ‘সবার জন্য নোংরা কাজ’ বলেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর: ইসমাইল বাঘাই

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলা নিয়ে জার্মানির অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তাঁর দাবি, আগে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থনসূচক বক্তব্য দেওয়া জার্মান নেতৃত্ব এখন নতুন করে সংঘাত শুরু না করার আহ্বান জানাচ্ছে এবং উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ২০২৫ সালের জুনে দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন। সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে মের্ৎস বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের সবার জন্য নোংরা কাজটি করছে।’

বাঘাই ওই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থানের তুলনা করেন। তাঁর মতে, ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির কর্মকর্তারা ইরানের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং উত্তেজনা আরও বাড়তে না দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

২৩ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নতুন করে সামরিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে—এমন উদ্বেগও আলোচনায় উঠে আসে।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বানকে বাঘাই জার্মানির অবস্থানের পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন; জার্মানির নীতিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নির্ধারণে দেশটির সরকারি বক্তব্য ও পররাষ্ট্রনীতির পূর্ণাঙ্গ অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নিজের বক্তব্যে বাঘাই জার্মান কবি ও নাট্যকার ফ্রিডরিখ শিলারের দ্য মেইড অব অরলিন্স নাটকের একটি অংশও উল্লেখ করেন। উদ্ধৃত অংশে উন্মত্ততার শক্তির কাছে যুক্তিকে অসহায়ভাবে অতল গহ্বরের দিকে টেনে নেওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এই সাহিত্যিক উদ্ধৃতির মাধ্যমে বাঘাই যুদ্ধ ও সংঘাতের বিপরীতে যুক্তিবোধ এবং কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জার্মানির অবস্থান নিয়ে বাঘাইয়ের মন্তব্য সেই বৃহত্তর বিতর্কেরই অংশ।

তবে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানানো এবং ইরানের বিষয়ে জার্মানির সামগ্রিক নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসা এক বিষয় নয়। ভবিষ্যতে দেশটির সরকারি বিবৃতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে এ অবস্থানের প্রকৃত তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হতে পারে।

এমএজেড
আরও পড়ুন