ইসরায়েলে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে পার্লামেন্ট নির্বাচন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর দেশটিতে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই হামলা ইসরায়েলকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা না-থাকার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্ষমতায় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটতে সময় লাগতে পারে।
কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল?
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচনের প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো দল বা জোট পার্লামেন্টে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হওয়ার কথা। ভোট শেষ হওয়ার পর ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এক্সিট পোল বা ভোটারদের ভোট-পরবর্তী জরিপের ফল প্রকাশ করবে। এসব জরিপ থেকে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। এরপর আনুষ্ঠানিক ভোট গণনার ফল আসতে শুরু করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটগণনা শেষ হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ৪ নভেম্বর।
তবে এক্সিট পোলকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ভোট গণনা ও আসন বণ্টনের পরই পার্লামেন্টে দলগুলোর প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
কেন ফল নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে?
ইসরায়েলের পার্লামেন্টের নাম নেসেট। এর মোট আসন ১২০টি। সাধারণ নিয়মে প্রতি চার বছর পর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দেশটিতে আগাম নির্বাচনও হয়েছে একাধিকবার।
নেসেটের আসন জাতীয় পর্যায়ে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে বণ্টন করা হয়। কোনো দলকে পার্লামেন্টে আসন পেতে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩.২৫ শতাংশ অর্জন করতে হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক ডজন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসন পাওয়ার মতো ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেল, কোন দল ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করল এবং সেই ভোটের ভিত্তিতে কতটি আসন পেল—এসব হিসাব চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কী?
চূড়ান্ত ভোটগণনা শেষ হলে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এরপর যাঁর সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করবেন, সেই প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।
মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন।
ইসরায়েলে কোনো একক দল এখন পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তাই সরকার গঠনে সাধারণত একাধিক দলকে নিয়ে জোট করতে হয়। এ কারণে নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলও যে সহজেই সরকার গঠন করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
জোট গঠনের আলোচনায় ছোট দলগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের সমর্থন নির্ধারক হয়ে দাঁড়ালে সরকার গঠনের শর্ত ও নীতিগত সমঝোতায় এসব দলের প্রভাব বাড়তে পারে।
সরকার গঠন সম্ভব না হলে কী হবে?
প্রথম মনোনীত প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীরাও সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
নেতানিয়াহুর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?
এই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সরকারের ভূমিকা এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে ভোটারদের মনোভাব বোঝারও একটি সুযোগ এটি।
তবে নির্বাচনে কোনো দল বা জোট কতটি আসন পাবে, তা-ই শেষ কথা নয়। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। তাই ভোটের ফল প্রকাশের পরও ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা নির্ভর করবে দলগুলোর মধ্যে জোট ও সমঝোতার ওপর।
সূত্র: রয়টার্স
‘জিহাদি’ মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া জবাব দিলেন এল-সাইয়েদ
পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে ইরানের কট্টরপন্থীরা, নেপথ্যে কী?