নেতানিয়াহুর উত্থান: কূটনীতির মঞ্চ থেকে দীর্ঘতম ক্ষমতাযাত্রা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

ইসরায়েলের রাজনীতিতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এমন এক নেতা, যার রাজনৈতিক জীবন বারবার পতন ও প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। সামরিক বাহিনীতে কাজ, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা, জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব, ডানপন্থী লিকুদ পার্টির নেতৃত্ব এবং নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছেন।

১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা হারান। পরে আবার ফিরে এসে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের পরও তিনি সরকার গঠন করেন। ইসরায়েলের পার্লামেন্টের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রীদের একজন। তার উত্থানের গল্প কেবল একজন রাজনীতিকের সাফল্যের কাহিনি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা-রাজনীতি, ফিলিস্তিন প্রশ্ন, বাম-ডান বিভাজন, জোটের হিসাব এবং দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক।

পরিবার, শিক্ষা ও সামরিক জীবন

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্ম ১৯৪৯ সালের ২১ অক্টোবর তেল আবিবে। তার বাবা বেনজিয়ন নেতানিয়াহু ছিলেন ইতিহাসবিদ। কৈশোরের একটি বড় সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাটান। পরে ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলে ফিরে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট সায়েরেত মাতকাল-এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে ছিনতাই হওয়া সাবেনা বিমান থেকে জিম্মিদের উদ্ধারের অভিযানে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

সামরিক জীবনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে স্থাপত্য ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা নেন। পরে বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপে কাজ করেন। তার শিক্ষা, ইংরেজিতে সাবলীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-সাংবাদিক মহলে যোগাযোগ পরবর্তী সময়ে তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেতে সহায়তা করে। 

ভাইয়ের মৃত্যু ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচার

১৯৭৬ সালে উগান্ডার এনতেবেতে ছিনতাই হওয়া বিমানের জিম্মিদের উদ্ধারে ইসরায়েলি অভিযানে নেতানিয়াহুর বড় ভাই ইয়োনাতান নেতানিয়াহু নিহত হন। ঘটনাটি তার পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ভাইয়ের স্মৃতিতে নেতানিয়াহু সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক আলোচনা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হন। এ সময় থেকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাকে তিনি নিজের রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরতে থাকেন।

১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরেন। বিবিসির বিশ্লেষণে তার ইংরেজিতে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা ও মার্কিন গণমাধ্যমে পরিচিতিকে রাজনৈতিক উত্থানের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

১৯৮৮ সালে নেতানিয়াহু ইসরায়েলে ফিরে লিকুদ পার্টির প্রার্থী হিসেবে নেসেটে নির্বাচিত হন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধান মুখপাত্রদের একজন হিসেবেও তিনি পরিচিতি পান। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১৯৯৩ সালে। ওই বছর তিনি লিকুদ পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

লিকুদ ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দল। দলটির রাজনৈতিক ভিত্তিতে ইসরায়েলের ভূমি ও নিরাপত্তা, ইহুদি জাতীয় পরিচয় এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। নেতানিয়াহু এসব ইস্যুকে সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করেন। 

১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ড ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন

নেতানিয়াহুর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে ১৯৯০-এর দশকের ইসরায়েলি রাজনীতির অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও)-র মধ্যে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির লক্ষ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতের সমাধানের পথ তৈরি করা। তবে ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ এ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে।

১৯৯৫ সালের ৪ নভেম্বর ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও অসলো শান্তিপ্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ইয়িৎসহাক রবিন এক ইহুদি উগ্রপন্থীর গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর শিমন পেরেস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসী হামলা এবং শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সরকার চাপে পড়ে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহু লিকুদের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার প্রচারে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ‘শান্তির সঙ্গে নিরাপত্তা’ এ ধরনের বার্তার মাধ্যমে তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ার বিরোধী ভোটারদের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেন।

২৯ মে ১৯৯৬-এর নির্বাচনে নেতানিয়াহু শিমন পেরেসকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি হন ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পদে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন; তখনকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় পার্লামেন্টের নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রীর ভোট আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 

প্রথম সরকার: ডানপন্থী অবস্থান, আবার শান্তি আলোচনাও

১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে নেতানিয়াহুর সরকার নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিন নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিল। তিনি অসলো প্রক্রিয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও দায়িত্বে থাকাকালে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান। ১৯৯৭ সালে তার সরকার হেবরন প্রটোকলে সম্মত হয়, যার মাধ্যমে শহরটির অধিকাংশ এলাকার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার পর ওয়াই রিভার মেমোরেন্ডামও স্বাক্ষরিত হয়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকার বেসরকারীকরণ, বাজারমুখী সংস্কার এবং বাজেট ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেয়। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তার সরকার ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির এহুদ বারাকের কাছে পরাজিত হয়ে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। এরপর কিছু সময়ের জন্য তিনি সরাসরি রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে বেসরকারি খাতে কাজ করেন।

প্রত্যাবর্তন: অর্থমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী

২০০২ সালে নেতানিয়াহু আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে এরিয়েল শ্যারনের সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি সরকারি ব্যয় কমানো, কর সংস্কার, বেসরকারীকরণ এবং কল্যাণব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো বাজারমুখী নীতি গ্রহণ করেন। সমর্থকদের মতে, এসব উদ্যোগ ইসরায়েলের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছিল। সমালোচকদের মতে, ব্যয় কমানোর নীতি সামাজিক বৈষম্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রভাব মূল্যায়নে এই দুই দিকই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরায়েলি বসতি ও সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে তিনি অর্থমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। একই বছর শ্যারন লিকুদ ছেড়ে নতুন দল কাদিমা গঠন করলে নেতানিয়াহু আবার লিকুদের নেতৃত্বে ফিরে আসেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে দীর্ঘ একটানা মেয়াদ।

দীর্ঘ ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি হয় যেভাবে

নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থায়িত্বের পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত, নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি। সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রীয় অংশ। যুদ্ধ, হামলা ও নিরাপত্তা-সংকটের সময় এ অবস্থান তার সমর্থকদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে।

দ্বিতীয়ত, জোট গঠনের দক্ষতা। ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো একক দল সাধারণত ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না। ফলে সরকার গঠনে ধর্মীয়, জাতীয়তাবাদী ও অন্যান্য ছোট দলের সমর্থন প্রয়োজন হয়। নেতানিয়াহু দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠনে সক্ষম হয়েছেন। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে জোট-রাজনীতিকে তার দীর্ঘ ক্ষমতাযাত্রা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তৃতীয়ত, ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন। জাতীয় পরিচয়, নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান লিকুদ ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক ভিত্তিকে একত্র করেছে। তবে তাঁর জোটের সব দল বা ভোটারের অবস্থান এক নয়। চতুর্থত, প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিভাজন। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, নীতি ও সম্ভাব্য জোট-অংশীদার নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ধারাবাহিক নির্বাচনী অচলাবস্থা এই বিভাজনের গুরুত্ব সামনে আনে। 

২০২১ সালে পতন, ২০২২ সালে আবার প্রত্যাবর্তন

২০২১ সালের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলো নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠন করে। ওই সরকারে আরব নেতৃত্বাধীন রা'আম দলও অংশ নেয়। এর ফলে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে। কিন্তু নতুন জোটের ভেতরে মতপার্থক্য এবং পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সমস্যা তৈরি হয়। ২০২২ সালে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে লিকুদ ও তার মিত্র ডানপন্থী, অতি-ডানপন্থী ও অতি-ধর্মীয় দলগুলো মিলে ৬৪টি আসন পায়। ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেয়। এই প্রত্যাবর্তন দেখায়, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক শক্তি শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না; নির্বাচনী ব্যবস্থায় জোটের হিসাব, মিত্রদের সঙ্গে সমঝোতা এবং বিরোধী দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কও এতে গুরুত্বপূর্ণ।

বিতর্ক, বিচার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে বিতর্কও ক্রমে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালে তার সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগে ইসরায়েলে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। সমর্থকদের একাংশের মতে, সংস্কার বিচারব্যবস্থার ক্ষমতা ও নির্বাচিত সরকারের কর্তৃত্বের ভারসাম্য পুনর্গঠনের উদ্যোগ; সমালোচকদের মতে, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গাজা যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়েও তার সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তার সমর্থকেরা হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানকে মোকাবিলায় তার সরকারের সামরিক পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে তীব্র মতভেদ রয়েছে। 

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তাই একমাত্রিক নয়। একদিকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সরকার গঠন ও ক্ষমতায় থাকার নজির তৈরি করেছেন; অন্যদিকে তার নীতি, জোটের প্রকৃতি, বিচারব্যবস্থা নিয়ে সংঘাত এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উত্থান ছিল ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক যাত্রা; সামরিক অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সেখান থেকে লিকুদ পার্টির নেতৃত্ব এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনী বিজয়। পরবর্তী সময়ে পরাজয় ও প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি ইসরায়েলের রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হন।

তার দীর্ঘ ক্ষমতাযাত্রার ব্যাখ্যায় নিরাপত্তা-রাজনীতি, ডানপন্থী ভোটের ভিত্তি, জোট গঠনের কৌশল এবং বিরোধীদের বিভাজনকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বের মূল্যায়নে দুর্নীতির মামলা, বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং ২০২৩ সালের নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রশ্নও বাদ দেওয়া যায় না।

জেএম
আরও পড়ুন