ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানিদাতা কে এই বেন-গভির

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। পুলিশ ও কারা প্রশাসনের ওপর তার কর্তৃত্ব, ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড তাকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়েও বেন-গভিরের অবস্থান আলোচনায় এসেছে। ইসরায়েলের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো মার্কিন যুদ্ধবিরতি চুক্তি তিনি মেনে নেবেন না বলে সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি দেশটির রাজনীতিতে কট্টর ডানপন্থীদের প্রভাবও স্পষ্ট হয়েছে।

বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার রাজনৈতিক অবস্থান ফিলিস্তিনিদের অধিকার, অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতে সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন। তার রাজনৈতিক উত্থান ইসরায়েলের ডানপন্থী ও কট্টর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিস্তারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২২ সালে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সময় বেন-গভিরকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুনভাবে গঠিত এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে তার প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। সমালোচকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মাধ্যমে তিনি নিজের কঠোর নিরাপত্তানীতির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করেছেন। অন্যদিকে, তার সমর্থকেরা আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারের পক্ষে তার অবস্থানকে সমর্থন করেন।

ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বেন-গভিরের ভূমিকা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। আল জাজিরার ২০২৬ সালের ২৩ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আটক কর্মীদের নিয়ে তার আচরণ ও প্রকাশ্যে তাদের হয়রানির ঘটনা তুলে ধরা হয়। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকার, আটক ব্যক্তিদের মর্যাদা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বেন-গভিরের গুরুত্ব কেবল তার মন্ত্রিত্বে সীমাবদ্ধ নয়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের রাজনীতিতে কট্টর জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নিরাপত্তা, ফিলিস্তিননীতি এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের মতো বিষয়ে তার অবস্থান সরকারের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমর্থক ও সমালোচকদের মূল্যায়ন ভিন্ন হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট বেন-গভির ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

জেএম
আরও পড়ুন