যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ২০ হাজারের বেশি ভোটারের ব্যালট বাতিলের জন্য বিচার বিভাগের করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। ভোটারদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এসব ব্যালট আটকে দেওয়ার উদ্যোগকে নির্বাচনের আগে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেওয়া এ রায়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ তৈরির আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা এই উদ্যোগকে।
মার্কিন বিচার বিভাগের আবেদনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তাদের অভিযোগ, ভোটের আগে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল বিচারক ডেভিড ও কার্টার তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ব্যালট জব্দ করার নির্দেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য সরকারের অবস্থানকেও সমর্থন করেন তিনি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক কার্টার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সরকার কখনো কোনো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারকে তাদের সাংবিধানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিত্যাগ করে নির্বাহী বিভাগের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেনি। তার মতে, এ ঘটনায় সাংবিধানিক অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন জড়িত এবং সেগুলো সুরক্ষিত রাখাই জনস্বার্থের পক্ষে।
বিচারক আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ব্যক্তিদের কেবল অনিশ্চয়তা ও ভুলে ভরা একটি প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
এর আগে কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় সরকার অভিযোগ করে আসছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় এক লাখ ৯০ হাজার অবৈধ ভোটার রয়েছেন। পরে সেই সংখ্যা কমিয়ে ২০ হাজারে নামিয়ে আনা হয়। আগাম ভোট শুরু হওয়ার পর, প্রায় ১০ দিন আগে, এসব ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো বন্ধ করার দাবিতে জরুরি মামলা করে বিচার বিভাগ।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিবেশী নেভাদা অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ১৬ হাজার অ-মার্কিন নাগরিক ভোটার থাকার অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের পর সেই সংখ্যা কমে ১৮৫-তে নেমে আসে এবং পরবর্তী সময়ে তা শূন্যে পৌঁছায়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক কার্টার বলেন, বিচার বিভাগের পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের একটি বিস্তৃত ও চলমান প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় এখনো স্বীকার করেননি ট্রাম্প। চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও জালিয়াতি হতে পারে বলে কয়েক মাস ধরে দাবি করে আসছেন তিনি। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও তা বিরল এবং নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো মাত্রায় পৌঁছায় না। সূত্র: আরব নিউজ
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকছেন নেতানিয়াহু
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু শত্রুকে জিততে দিইনি: হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলের নেতাদের গ্রেপ্তার চান বেন-গাভির
নেতানিয়াহু বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর বয়ান তৈরিতে অভ্যস্ত: আইজেনকট