ইরানি দ্বীপপুঞ্জে আমিরাতের দাবির প্রতি কানাডার সমর্থন, তেহরানের নিন্দা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

পারস্য উপসাগরের তিনটি দ্বীপের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবির প্রতি কানাডার সমর্থনকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অবস্থানের সমালোচনা করেন বাঘাই। আবু মুসা, বৃহত্তর তুনব ও ক্ষুদ্রতর তুনব, এই তিনটি দ্বীপের ওপর আমিরাতের দাবিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি এর প্রতি কানাডার সমর্থন প্রত্যাখ্যান করেন।

বাঘাই বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ আবু মুসা, বৃহত্তর তুনব ও ক্ষুদ্রতর তুনব দ্বীপের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান এবং নথিভুক্ত তথ্য-প্রমাণ ইরানের সঙ্গে এসব দ্বীপের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে। তাঁর দাবি, আমিরাত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বহু হাজার বছর আগ থেকেই দ্বীপগুলো ইরানের অংশ ছিল। এ বাস্তবতা উপেক্ষা করেই আমিরাত দ্বীপগুলোর ওপর দাবি জানিয়ে আসছে।

ইরানি মুখপাত্র বলেন, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর গুরুত্ব কানাডার অন্য অনেক দেশের চেয়ে বেশি বোঝার কথা। এ প্রসঙ্গে তিনি কানাডার নিজস্ব ইতিহাসের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৮১২ সালের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণ, ১৮৪৯ সালের মন্ট্রিয়ল অ্যানেক্সেশন ম্যানিফেস্টো এবং সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার মন্তব্য।

বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ঐতিহাসিক-আইনি তথ্যের প্রতি সম্মান কি কানাডার কাছে মৌলিক নীতি, নাকি কেবল দেশটির নিজের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে?

তিনি আরও বলেন, যে দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিজের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তার পক্ষে অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে ভিত্তিহীন দাবিকে সমর্থন করা স্ববিরোধী। এমন অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে কানাডা কার্যত নিজের অবস্থানের ভিত্তিকেই দুর্বল করছে বলে মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত