জনসমর্থন কমে যাওয়ায় কঠিন পরীক্ষার মুখে ট্রাম্প

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময় কেমন কাটবে, তা নির্ধারিত হবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে। মঙ্গলবার মার্কিন ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট সদস্য নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি প্রণয়ন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। যদিও বিভিন্ন পদে ভোট হচ্ছে, তবে সবার মূল আকর্ষণ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। বর্তমানে উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা আধিপত্য ধরে রেখেছে।

তবে জনসমর্থনে ধস, জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি এবং ইরান সংঘাত রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় দারুণ সুযোগ দেখছে ডেমোক্র্যাটরা। সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৭ শতাংশে।

অতীতে দেখা গেছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সাধারণত প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারায়। ১৯৩৪ সাল থেকে পরিসংখ্যান বলছে, এই ধারায় এবারও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে ট্রাম্প শিবির।

প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই এবার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ১৮টি আসনে ফলাফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি রিপাবলিকান এবং ৪টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে।

সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবার ভোট হবে ৩৫টিতে। সেখানেও রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের লড়াই বেশ কঠিন। তবে মিশিগান ও টেক্সাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে তারা।

নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি। ইরান সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বেশ চাপে পড়েছে।

জনসমর্থনে পিছিয়ে থাকলেও তহবিলের দিক থেকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে রিপাবলিকানরা। বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় তারা ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে ঢের এগিয়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী এই নির্বাচনের ফল শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণও ঠিক করে দেবে।

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত