যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তার মূল্য দিতে হয়েছে ট্রাম্পকে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান। তবে একই সময়ে মানুষ ইরানের বিষয়ে আমি যা করেছি, তার গুরুত্বও বুঝতে পেরেছে।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি মনে করেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কৌশলগত গুরুত্ব ভোটাররা বুঝলেও যুদ্ধের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ মেনে নিতে পারেননি অনেকে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভোটাররা সম্ভবত পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির মতো স্বল্পমেয়াদি পরিণতি গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলেন না। অর্থাৎ ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ মার্কিন নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে। আর সেই অসন্তোষ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য নেতিবাচক হয়ে উঠেছে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। পেট্রলের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনী সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা দেখছেন না। অর্থাৎ নির্বাচনী ধাক্কার পরও আপাতত প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাইছেন না তিনি।
নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইরান যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা ব্যয়, জ্বালানিনীতি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন, শুনানি ও তদন্তের মুখেও পড়তে হতে পারে তাঁর প্রশাসনকে।
এখানেই ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক তাৎপর্য। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরানের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই কৌশলের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে তার প্রভাব পড়েছে বলে খোদ ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মূল্যকে সামনে এনেছে।
তবে এই নির্বাচনী ফলকে সরাসরি ইরানের সামরিক বিজয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতি আলাদা বিষয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান ইস্যু যে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। আর ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে তাঁর স্বীকারোক্তি নতুন এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে—যে যুদ্ধের কৌশলগত সাফল্যের পক্ষে তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, সেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক বোঝাই শেষ পর্যন্ত তাঁর দলের নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল করার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ।
হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের ৭ শর্তে সন্তুষ্ট নয় যুক্তরাষ্ট্র
পরাজয়ের পর ট্রাম্পের কোন কোন ক্ষমতা বহাল থাকছে, কোনগুলো হারাচ্ছেন?
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হামলায় আহত তৌফিকের মৃত্যু, গ্রামে ফিরল মরদেহ