তৃতীয় দফায় রিমান্ডে তাহসিফের বন্ধু দীপ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তার বন্ধু ও মামলার আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রিপন হোসেন রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

মামলার তদন্তের স্বার্থে দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফিরোজ উদ্দিন। 

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে দুই দফায় মোট সাত দিন পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে তাহসিফ কীভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে দীপের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উঠে এসেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপ নিজ বাসা থেকে ফোন করে তাহসিফকে ডেকে নেন। পরে দীপ, তাহসিফ ও এ মামলার অপর আসামি এক তরুণী একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে যান। সেখান থেকে তারা উত্তরার বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় খাবার খান। একপর্যায়ে স্থানীয় নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিয়ার পান করেন তারা। পরে ওই তরুণী বাসায় চলে গেলে দীপ ও তাহসিফ রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান।

সেখানে পৌঁছে তারা তুরাগ নদীর পাশের একটি মাঠের দিকে যান। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, ওই মাঠে কয়েকজন লোককে দেখতে পেয়ে তারা আলাদা হয়ে যান। তবে এরপর তাদের মধ্যে কী ঘটেছিল, কীভাবে তাহসিফের মৃত্যু হলো কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তার বক্তব্যে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন। ফলে তার দেয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও কললিস্টের তথ্যের সঙ্গে বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যার কারণ, ঘটনার পরিকল্পনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের বিষয়েও তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বলে আবেদনে জানানো হয়েছে।

তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হত্যার পেছনে কোনো পরিকল্পনাকারী বা সহযোগী ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এএইচএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত