ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের হতাশার বহিঃপ্রকাশ: এসলামি

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ধারাবাহিক হুমকি দেশটির ক্রমবর্ধমান হতাশারই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার (এইওইআই) প্রধান মোহাম্মদ এসলামি।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিয়মিতভাবে ইরানের কুহে কোলাংসহ বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিচ্ছেন। অতীতেও বিভিন্নভাবে অন্য স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসলামির ভাষায়, এসব হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের হতাশার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিরও কঠোর সমালোচনা করেন এসলামি। তাঁর অভিযোগ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে প্রতিপক্ষের কাছে তথ্য সরবরাহ করে গ্রোসি কার্যত ইরানের শত্রুদের ‘অনুগত এজেন্টে’ পরিণত হয়েছেন।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার উল্লেখ করে এসলামি বলেন, এতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) কাঠামোর গুরুতর দুর্বলতাও প্রকাশ পাচ্ছে।

আইএইএ মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান বলেন, এই দ্বৈত মানদণ্ড এখন এতটাই স্পষ্ট যে তা প্রকাশ্যেই চর্চা করা হচ্ছে।

এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে যা বললেন

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এসলামি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কৌশলগত ও উচ্চপর্যায়ে। এটি ইরানের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে ভিত্তি করে বৃহত্তর কৌশলগত কাঠামোর মধ্যে থেকেই ইরান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এসলামির বক্তব্যে এনপিটি থেকে ইরানের সম্ভাব্য প্রত্যাহারের বিষয়টি সরাসরি ঘোষণা করা হয়নি। বরং তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিবেচনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হবে।

এএইচএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত