লিবিয়ায় রাতভর সংঘর্ষে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা নিহত

আপডেট : ১৩ মে ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সোমবার (১২ মে) রাতে ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা। নিহত ব্যক্তি হলেন আবদেলগনি আল-কিকলি, যিনি ‘সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি অ্যাপারেটাস’ নামে পরিচিত একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান ছিলেন। 

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ ত্রিপোলিসহ আশপাশের অঞ্চলেও। ফলে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে লিবিয়ার স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঐক্যের ভবিষ্যৎ।

সোমবার রাত ৯টা থেকে ত্রিপোলির দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয় গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা। রাতভর সংঘর্ষ চলে ত্রিপোলির বিভিন্ন অংশে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী অস্ত্রের শব্দে রাজধানীর আকাশ যেন কেঁপে উঠছিল। অনেকে আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান।

এই গোষ্ঠী ত্রিপোলির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এবং রাজধানীর দক্ষিণাংশে তাদের প্রভাব বিস্তৃত ছিল।

সংঘর্ষ শুরু হয় রাজধানী ত্রিপোলির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শহর মিসরাতা-ভিত্তিক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে। মিসরাতা ত্রিপোলি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর ক্ষমতার অংশীদার হতে চাচ্ছে সেখানে গড়ে ওঠা গোষ্ঠীগুলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্বন্দ্ব এককথায় শুধু ক্ষমতার নয়, বরং এটি তেলসম্পদ, সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই।

ত্রিপোলিভিত্তিক জাতীয় ঐক্যের সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়— পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করতে ও সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে।

সংঘর্ষের জেরে ত্রিপোলি ও আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।

জাতিসংঘের লিবিয়া সহায়তা মিশন (UNSMIL) বলেছে--‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ত্রিপোলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সকল পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিশ্ব সম্প্রদায়ের বহু কূটনৈতিক সংস্থা মনে করছে, লিবিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তায় একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক রোডম্যাপ প্রয়োজন।

Raj/AHA
আরও পড়ুন