চাহিদা কম, তবু চড়া মাংস-সবজির দাম

আপডেট : ১০ জুন ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহার চতুর্থ দিনেও বন্ধ রয়েছে রাজধানীর বেশিরভাগ গরুর মাংসের ও সবজির দোকান। হাতে গোনা দুই একটি দোকান খোলা থাকলেও গরুর মাংস ও সবজি বিক্রি নেই বললেই চলে। বিক্রি না থাকায় অনেক দোকানি গরু জবাই করছেন না। এমনকি সবজি ব্যবসায়ীরা সরবরাহ করছেন না তেমন কোনো সবজি। তবে গরুর মাংস ও সবজির চাহিদা কম থাকলেও যেসব দোকান খোলা আছে সেসব দোকানে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে মাংস ও সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর বাড্ডা, বাসাবো ও যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদ পরবর্তী বাজারে প্রায় ৯০ ভাগ গরুর মাংসের দোকান বন্ধ রয়েছে। দুই একটি দোকান খোলা থাকলেও নেই পর্যাপ্ত বেচা বিক্রি। ফলে একদিকে যেমন অলস সময় কাটছে দোকানিদের তেমনি যাদের প্রয়োজন আছে তাদের ঘুরতে হচ্ছে লম্বা পথ। তবে গরুর মাংসের চাহিদা কম থাকলেও দেশি মুরগির চাহিদা বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের কক মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ধরনের কক মুরগি কিনতে দাম গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। মান ও আকারভেদে রোস্টের জন্য সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার মুরগি আকারভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে। এদিকে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়।

ইয়াসিন আলী নামের এক গরুর মাংস বিক্রেতা বলেন, ঈদুল আজহাতে অনেকেই গরু কোরবানি দেন ফলে এই সময়ে অন্তত দুই সপ্তাহ কেউ খুব প্রয়োজন ছাড়া মাংস কেনেন না। যারা কোরবানি দেন না, সাধারণত এমন পরিবারগুলো থেকেই মাংস কিনতে আসেন ক্রেতারা। তবে এখন ক্রেতা নেই বললেই চলে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পর সবজির দোকানগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ রয়েছে। অল্প কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও তাতে পণ্য ও ক্রেতা দুই-ই কম।

সবজি বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহ ছিল। তবে ঈদের দিন থেকে চাহিদা ও সরবরাহ দুটোই কমেছে।

সকালে যাত্রাবাড়ীর তুষারধারা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারটিতে এখন অধিকাংশ সবজি দোকানই বন্ধ। অল্প কয়েকটি দোকান খোলা রয়েছে। 

এ বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ঈদ করতে সবাই গ্রামে চলে গেছে। এজন্য সবজির চাহিদাও কম। তাছাড়া এখন প্রত্যেকের ঘরে-ঘরে মাংস। সবমিলিয়ে চাহিদা কম থাকায় সরবরাহও কম। 

বাজারে সবজি কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, মানুষের বাসায় কোরবানির মাংস থাকার কারণে এখন সবজির চাহিদা কম। তবে আমাদের পরিবারের সবাই মাংসের পাশাপাশি সবজি খাই। সেজন্য বাজারে সবজি কিনতে এলাম।

Raj
আরও পড়ুন