বিয়ে করার ১৬ উপকারিতা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৬ এএম

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিবাহ করা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলো না, সে আমার নয়। তোমরা বিবাহ করো, কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করবো। (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬)। বিবাহের রয়েছে শারীরিক ও মানসিক নানাবিধ উপকারিতা। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিবাহের ১৬ টি উপকারিতা নিম্নে বর্ণনা করা হলো-

১) লজ্জাস্থান ও চোখের হেফাজত হয়:

স্বাভাবিকভাবে মানুষ চোখ এবং লজ্জাস্থান দিয়েই নারীঘটিত অপরাধগুলো বেশি করে থাকে। বিবাহ করলে চোখ এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত হয়।

ফলে গুনাহও কম হয়। রাসুল সা. বলেন, হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন অবশ্যই বিবাহ করে নেয়। কেননা বিবাহ দৃষ্টি অবনত করে এবং লজ্জাস্থানের অধিক হিফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ। অর্থাৎ- অবৈধ যৌনচাহিদা থেকে বিরত রাখে। (বুখারী: ৫০৬৬)।

২) শ্রেষ্ঠ সম্পদ অর্জন হয়

ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। স্বীকৃতি দিয়েছে শ্রেষ্ঠতম সম্পদ হিসেবে। আর এই সম্পদ অর্জন হয় বিবাহের মাধ্যমে। রাসুল (সা.) বলেন, 'দুনিয়ার সমস্ত কিছুই (তুচ্ছ ও ক্ষণস্থায়ী) ধন-সম্পদ। (তন্মধ্যে) মুসলিম সতীসাধ্বী রমণী হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।(মুসলিম: ১৪৬৭)।

৩) সম্পদের রক্ষক মিলে

মানুষের বাহ্যিক সম্পদ দুই ধরণের। ঘরের সম্পদ, যেমন: সংসার, সন্তান-সন্ততি, জীবনযাপনের উপকরণ ইত্যাদি। বাইরের সম্পদ, যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ইত্যাদি।

পুরুষ সাধারণত বাইরে থাকে এবং বাইরের সম্পদের বেশি খেয়াল করে। আর নারীরা সাধারণত ঘরে থাকে এবং ঘরের সম্পদের বেশি খেয়াল করে। স্ত্রী হিসেবে নারী এসে ঘরের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

আর স্ত্রী না থাকলে পুরুষের সন্তান সংসার কিছুই হয় না। রাসুল সা. বলেন, 'উট আরোহণকারিণীদের মধ্যে সর্বোত্তম নারী কুরাইশ বংশের নারীগণ। তারা শৈশবকালে সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহপরায়ণা হয় এবং স্বামীর ধন-সম্পদের উত্তম রক্ষনাবেক্ষণকারিণী হয়।' (বোখারি: ৫০৮২)।

৪) ফেতনায় পড়ার আশঙ্কা কমে

বিপরীত লিঙ্গের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সৃষ্টিগত। এর বাইরে কোনো সুস্থ্য মানুষ নেই। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষেরা নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অবৈধ সম্পর্ক, অসামাজিক কার্যকলাপ, সম্পদ ও সম্ভ্রমহানিকর বিভিন্ন ফেতনায় জড়িয়ে পড়ে।

রাসুল সা. এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমার (ইন্তেকালের) পরে আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য নারী অপেক্ষা অধিক ফিতনার শঙ্কা আর কিছুতেই রেখে যাইনি। (বুখারী: ৫০৯৬)। সুতরাং বিবাহ করলে নারীঘটিত অপরাধ কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

৫) আল্লাহ সাহায্য করেন

নিজের চরিত্র পবিত্র রাখার উদ্দেশ্যে যে বিবাহ করতে চায় আল্লাহ তাআলা তাকে সাহায্য করেন। রাসুল (সা.) বলেন, 'তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই সাহায্য করেন। (এক) ক্রীতদাস, যে তার মুক্তিপণ পরিশোধ করে স্বাধীন হতে চায়। (দুই) বিবাহ উদ্যমী ব্যক্তি, যে স্বীয় চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশে বিবাহ করতে চায় হয়। (তিন) মুজাহিদ, যে আল্লাহর পথে জিহাদ করে।' (তিরমিযী: ১৬৫৫)।

৬) ধৈর্য অর্জন হয়

বিবাহের পরে স্ত্রীর সাথে জীবন যাপনের ক্ষেত্রে, তার প্রকৃতি ও চরিত্রগত অভ্যাসের প্রতি ধৈর্য অবলম্বন করতে হয়। এতে নিজের মাঝে ধৈর্যের স্বভাব সংযুক্ত হয়। ধৈর্য মহৎ গুণ। ধৈর্যশীলদের কে আল্লাহ সুসংবাদ দিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে 'ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।' (বাকারা: ১৫৫)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে 'নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।' (বাকারা: ১৫৩)।

৭) সন্তান লাভ হয়

এই পৃথিবীর যতো সভ্যতা, যতো উৎকর্ষতা, যতো কীর্তি তার সকল কিছুতেই রয়েছে মানুষের অবদান। আল্লাহ তাআলার মানসা হলো, তিনি এই পৃথিবী মানুষের মাধ্যমে আবাদ করবেন। তিনি করছেনও তাই। আর মানুষ দুনিয়াতে আসার সবচাইতে নিরাপদ ও বৈধ পন্থা হলো বিবাহ। এ কারণেই নবীজি অধিক সন্তান প্রসবকারিনী নারীকে বিবাহ করতে বলেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, 'তোমরা বিবাহ করো স্বামীভক্ত ও অধিক সন্তান প্রসবকারিণীকে।' (আবু দাউদ: ২০৫০)।

৮) অনুরাগী সঙ্গী লাভ হয়

স্বামী-স্ত্রীর মাঝে থাকে পবিত্র সম্পর্ক। যে সম্পর্ক গভীর, নিবিড়, প্রেম ও প্রনয়ের। স্বামী স্ত্রী ব্যতীত অন্য কারো মধ্যে তা পাওয়া যায় না। একমাত্র বিবাহের মাধ্যমেই এই সম্পর্ক অর্জন হয়। রাসুল (সা.) বলেন, 'বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ দম্পতির পরস্পরের প্রতি যে আন্তরিক প্রেম-ভালোবাসা, তা অন্য (কোথাও) দু’জনের মাঝে তুমি দেখতে পাবে না। (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৭)

৯) চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জন হয়

বিবাহের মাধ্যমে মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জন হয়। রাসুল (সা.) বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সাথে পাক-পবিত্র অবস্থায় সাক্ষাত প্রত্যাশা করে, সে যেন স্বাধীনা রমণীকে বিয়ে করে।' (ইবনু মাজাহ: ১৮৬২)।

১০) ইমান পূর্ণ হয়

বিবাহ করলে ইমান পূর্ণ হয়। রাসুল (সা.) বলেন, 'মানুষ যখন বিয়ে করে তখন সে তার ইমানের অর্ধেক পূর্ণ করে, আর অবশিষ্টাংশ লাভের জন্য সে যেন আল্লাহভীতি অর্জন করে।' (সহীহাহ্: ৬২৫, আল জামি: ৬১৪৮)।

১১) সওয়াব লাভ হয়

স্ত্রী সন্তানের জন্য যা কিছু খরচ করা হয়, তা সদকা হিসাবে গণ্য হয়। ফলে অর্জন হয় সওয়াব। রাসুল (সা.) বলেন, 'তুমি পরিবারের জন্য যা খরচ করবে, তা সদকা। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমা তুলে দেবে, তাও সদকা' (বোখারি: ২৫৯১)।

১২) বরকত ও প্রাচুর্য আসে

বিয়ের মাধ্যমে রিজিকে বরকত ও জীবনে প্রাচুর্য আসে। রাসুল সা. বলেন, তোমরা বিয়ে করো। স্ত্রীরা স্বীয় ভাগ্যে তোমাদের নিকট সম্পদ টেনে আনবে।' (মুসনাদে বাজ্জার: ১৪০২)।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর তোমাদের মধ্যে যে পুরুষদের স্ত্রী নেই এবং যে নারীদের স্বামী নেই, তাদের এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদের বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তারা অভাবগ্রস্ত থাকে, তাহলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের ধনী করে দেবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। (নুর: ৩২)।

১৩) আত্মিক ও শারীরিক প্রশান্তি লাভ হয়

বিবাহ করলে আত্মিক ও শারীরিক প্রশান্তি লাভ হয়। কুরআন মাজিদে এরশাদ হয়েছে, তার এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে শান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর নিদর্শন রয়েছে সেই সকল লোকেদের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (রুম: ২১)।

১৪) মৃত্যুর পরেও সওয়াব জারি থাকে

বিবাহের মাধ্যমে মানুষ বৈধ পন্থায় সন্তান লাভ করে। সেই সন্তান যদি নেককার হয় তাহলে মৃত্যুর পরেও সওয়াব জারি থাকে। রাসুল (সা.) বলেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩টি আমল বন্ধ হয় না (১) সদকায়ে জারিয়া, (২) এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং (৩) এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম: ৪৩১০)।

১৫) আল্লাহর আদেশ পালন হয়

বিবাহ করলে আল্লাহ তাআলার (জায়েজ) নির্দেশ পালন হয়। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, 'তোমরা নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয়, দুই, তিন অথবা চারজনকে বিবাহ করো। অবশ্য যদি আশংকা বোধ করো যে, তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে এক স্ত্রীতে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীতে (ক্ষান্ত থাকো)।' (নিসা: ০৩)।

১৬) নবীদের সুন্নত আদায় হয়

বিবাহ নবীগণের সুন্নত। বিবাহ করলে নবীগণের সুন্নত আদায় হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘চারটি জিনিস নবী-রাসুলগণের সুন্নত। লজ্জাবোধ, সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক এবং বিবাহ।' ( সুনানে তিরমিজি: ১০৮০)।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত