পবিত্র রমজান মাস সওয়াব অর্জনের বসন্তকাল। এই মাসে রোজা রাখা প্রতিটি সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। রোজা পালন ও ইফতারের বিভিন্ন নিয়মকানুন নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। তেমনই একটি কমন প্রশ্ন হলো অজু ছাড়া ইফতার করা যাবে কি না?
অজু ছাড়া ইফতারের বিধান
ইসলামি ফিকহবিদদের (ফুকাহায়ে কেরাম) মতে, অজু ছাড়া ইফতার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। কারণ ইফতার মূলত রোজা ভাঙার একটি খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া। খাবার খাওয়ার জন্য অজু করা শর্ত নয়। তবে ইফতার করার পর মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য অবশ্যই অজু করতে হবে। তাই সময়ের স্বল্পতা থাকলে ইফতারের আগেই অজু করে নেওয়া উত্তম, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।
আজান দিতে দেরি হলে করণীয়
মাঝে মাঝে দেখা যায় সূর্যাস্ত হয়ে গেলেও কারিগরি সমস্যা বা কোনো বিশেষ কারণে মসজিদের আজান দিতে কয়েক মিনিট দেরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে:
১. সূর্যাস্তের ওপর ভিত্তি করে ইফতার: ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সূর্যাস্ত হওয়ামাত্রই ইফতার করা সুন্নত। তাই যদি আপনার কাছে বিশ্বস্ত ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা অনুমোদিত নির্ভুল সময়সূচি থাকে এবং আপনি নিশ্চিত হন যে সূর্যাস্ত হয়ে গেছে, তবে আজানের অপেক্ষা না করে ইফতার করা বৈধ।
২. সন্দেহ পরিহার করা: ইসলামে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ হতে নিষেধ করা হয়েছে। যদি সূর্যাস্ত হওয়ার বিষয়ে আপনি নিশ্চিত হন, তবে ইফতার করবেন। কিন্তু যদি ঘড়ি বা সময়ের ব্যাপারে মনে কোনো দ্বিধা থাকে, তবে আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করাই হবে সতর্কতামূলক ও উত্তম কাজ।
উল্লেখ্য, রোজা কেবল আমাদের ওপরই নয়, পূর্ববর্তী সকল উম্মতের ওপরও ফরজ ছিল। তাই এই মহিমান্বিত ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম ও মাসআলা জেনে নেওয়া প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।
গর্ভবতী নারীর রোজা রাখা কি আবশ্যক
জাকাত ও ফিতরার পার্থক্য কী? কাদের জন্য প্রযোজ্য
