দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বাজারে গুগল নতুন শক্তি দেখাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির জেমিনি ৩ মডেল এবং নিজস্ব তৈরি টেনসর চিপ প্রযুক্তি বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন গুগলের দিকে খেয়াল রাখতে শুরু করেছে।
এনভিডিয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, “গুগলের এই সাফল্যে আমরা আনন্দিত। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি করেছে, এবং আমরা তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করব।”
শেয়ারবাজারেও গুগলের অগ্রগতি স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। গত সপ্তাহে গুগলের শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে এনভিডিয়ার শেয়ার সামান্য কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আপাতত গুগল এআই প্রতিযোগিতায় নেতৃত্বে রয়েছে, তবে নতুন মডেল ও উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
গুগল প্রযুক্তিতে নতুন হলেও, এআই ব্যবহারে তারা মোটেও নতুন নয়। গুগল সার্চ, অনুবাদ, এবং ক্লাউড সেবায় দীর্ঘদিন ধরে এআই ব্যবহার হচ্ছে।
তবে ২০২২ সালে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর গুগল কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি “কোড রেড” ঘোষণা করেছিল। এখন জেমিনি ৩ বিভিন্ন পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি, গ্রোক এবং অ্যানথ্রোপিকের ক্লাউড সেবাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
চিপ প্রতিযোগিতায় এনভিডিয়া এখনও শীর্ষে। গুগলের টেনসর চিপ নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি। যা ASIC নামে পরিচিত। অন্যদিকে এনভিডিয়ার জিপিইউ চিপ দ্রুত গণনার ক্ষমতাসম্পন্ন এবং বহুমুখী ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
গুগল ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বড় আকারের এআই মডেল এবং জেমিনি ব্যবহারকারীদের সরবরাহ করছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এক মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী জেমিনি ৩ পরীক্ষা করেছেন।
গুগল জানিয়েছে, এই মডেল ব্যবহার করে লেখা তৈরি, ছবি সম্পাদনা এবং ভিডিও প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্ভব।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আপাতত গুগল শক্তিশালী খেলোয়াড়। তবে প্রতিটি এআই প্রতিষ্ঠান আলাদা সুবিধা এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তাই বাজারের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা সবসময়ই চলমান।
