গুগল আপনার তথ্য সংরক্ষণ করে? গোপনীয়তা সুরক্ষায় যা করবেন 

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ পিএম

স্মার্টফোন ব্যবহার মানেই গুগলের বিশাল এক পরিষেবার জালে জড়িয়ে থাকা। এসুযোগে গুগল আপনার তথ্য সংরক্ষণ করে, যেমন সার্চ হিস্টোরি, লোকেশন, ইউটিউব অ্যাক্টিভিটি ইত্যাদি, যা অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগতকরণ ও পরিষেবা উন্নত করতে ব্যবহৃত হয়, তবে গোপনীয়তা রক্ষায় আপনি My Activity, Privacy Checkup, ও Activity Controls ব্যবহার করে ডেটা নিয়ন্ত্রণ ও মুছে ফেলতে পারেন, যেমন ১৮ মাস পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সেটিংস চালু করা বা নির্দিষ্ট ডেটা বন্ধ রাখা। 

অ্যানড্রয়েড ফোন থেকে শুরু করে জিমেইল, ইউটিউব কিংবা গুগল ম্যাপস—আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এখন এই মাধ্যমগুলো। কিন্তু সুবিধার আড়ালে গুগল ঠিক কোন কোন তথ্য আপনার ফোন ও অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করছে, তা কি আপনি জানেন?

ভালো খবর হলো, গুগল আপনার কাছ থেকে সংগৃহীত এই বিপুল তথ্যের ভাণ্ডার দেখার এবং তা নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ সুযোগ আপনাকে দিয়ে রেখেছে। একটু সচেতন হলেই আপনি আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন।

গুগল আপনার কোন কোন তথ্য সংরক্ষণ করে?
মূলত ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার দোহাই দিয়ে গুগল বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

লোকেশন হিস্ট্রি: আপনি দিনভর কোথায় গিয়েছেন, কোন রাস্তায় যাতায়াত করেছেন এবং কতক্ষণ কোথায় ছিলেন।

সার্চ হিস্ট্রি: গুগলের সার্চ বক্সে আপনি কী লিখে সার্চ করছেন।

ইউটিউব হিস্ট্রি: আপনি কোন ধরনের ভিডিও দেখছেন বা কী খুঁজছেন।

অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি: আপনার ফোনে থাকা কোন অ্যাপ কতক্ষণ ব্যবহার করছেন।

ডিভাইস ইনফরমেশন: আপনার ফোনের মডেল, ব্যাটারি লেভেল এবং আইপি অ্যাড্রেস।

এই তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করেই গুগল আপনাকে রিলেটেড সার্চ সাজেশন এবং আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখায়।

নিজের ডেটা দেখার ও নিয়ন্ত্রণ করার ধাপসমূহ

আপনার সম্পর্কে গুগলের কাছে কী কী তথ্য আছে, তা নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সহজেই দেখে নিতে পারেন:

অ্যাকাউন্টে প্রবেশ: ফোনের ব্রাউজার বা কম্পিউটার থেকে myaccount.google.com লিঙ্কে প্রবেশ করুন।

ডেটা ও প্রাইভেসি: গুগল অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করার পর মেনু থেকে “Data & privacy” অপশনে ক্লিক করুন।

হিস্ট্রি সেটিংস: এখানে নিচে স্ক্রল করলে “History settings” অংশ পাবেন। এর অধীনে আপনি ‘Web & App Activity’, ‘Location History’ এবং ‘YouTube History’ আলাদাভাবে দেখতে পাবেন। 

তথ্য মুছে ফেলা: যেকোনো অপশনে ঢুকে আপনি আপনার পুরনো ডেটাগুলো দেখে নিতে পারেন। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট কোনো দিনের তথ্য মুছতে পারেন অথবা “Auto-delete” অপশনটি চালু করে রাখতে পারেন। এতে ৩, ১৮ বা ৩৬ মাস পর পর আপনার তথ্যগুলো গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে দেবে।

বাড়তি নিরাপত্তার জন্য যা করবেন

* ডিজিটাল নিরাপত্তার এই যুগে কেবল তথ্য দেখাই যথেষ্ট নয়, বরং এর নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে রাখা জরুরি।
* প্রয়োজন না হলে লোকেশন ট্র্যাকিং বন্ধ রাখুন।
* সার্চ ও ইউটিউব হিস্ট্রি সাময়িকভাবে ‘Pause’ করে রাখতে পারেন।
* অপ্রয়োজনীয় থার্ড পার্টি অ্যাপকে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস দেবেন না।

কেন এই সতর্কতা জরুরি?

বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোতে এখন ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অনলাইন সেবার ব্যবহার আকাশচুম্বী। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়া মানেই ডিজিটাল ঝুঁকির মুখে পড়া। নিজের গুগল ডেটা নিয়মিত পরীক্ষা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাকিং থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে নিজের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখা সহজ হয়।

গুগল আপনার ফোনে কী তথ্য রাখছে, তা জানা মানে নিজের ডিজিটাল স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। মাত্র কয়েক মিনিটের এই পরীক্ষা আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করে তুলবে।

AHA
আরও পড়ুন