যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী- জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে আসছে একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ঘাতক হিশাম আবুঘারবিয়েহ হত্যার আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘চ্যাটজিপিটি’র কাছে মরদেহ গুম করার উপায় এবং তা শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির (উভয়ের বয়স ২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন প্রসিকিউটররা।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল রাতে হিশাম চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, ‘কোনো মানুষকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হয়?’ চ্যাটবটটি একে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এটা (লাশ ফেলা) কীভাবে ধরা পড়বে?’
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল হিশামকে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বড় বড় কার্ডবোর্ডের বাক্স ডাম্পস্টারে ফেলতে দেখেন এক রুমমেট। পরে পুলিশ ওই ডাম্পস্টার থেকে জামিল লিমনের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করে। সেখানে পাওয়া একটি রক্তমাখা টি-শার্টে ডিএনএ পরীক্ষায় লিমনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া রান্নাঘরের একটি ম্যাটে পাওয়া ডিএনএ নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গে মিলে গেছে।
তদন্তকারীরা জানান, জামিল লিমনের মরদেহ একটি ভারী আবর্জনার ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তাকে একাধিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা না গেলেও পুলিশ তার ব্যবহার করা গোলাপি ফোনের কভার উদ্ধার করেছে।
গ্রেপ্তারের সময় হিশামের হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেলে তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে তাঁর হাত কেটেছে। এছাড়া তিনি শুরুতে লিমন ও বৃষ্টির অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও, পরে মোবাইল লোকেশন ডেটা বা জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার মিথ্যাচার ধরা পড়ে। ১৭ এপ্রিল তিনি হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে অবস্থান করেছিলেন এবং সেখান থেকেই লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়।
হিশাম আবুঘারবিয়েহকে বর্তমানে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধভাবে আটকে রাখা, মরদেহ গোপন করা এবং আলামত নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এক শোকবার্তায় লিমনের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং নাহিদা বৃষ্টির বিষয়ে এখনো আশা ছাড়ছে না। নিহতদের পরিবার তাদের মরদেহ ইসলামি বিধান অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন। সূত্র: এনবিসি নিউজ, সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, একজনের লাশ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদাও মারা গেছেন