আমেরিকায় বাংলাদেশি তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

আপডেট : ২৩ মে ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী আনবার নাজাহ (২৬) গত সপ্তাহে আমেরিকার আটলান্টার একটি হাসপাতালে মারা যান। এরপর পরিবারকে না জানিয়ে মরদেহ দাফন করে ফেলেন তার স্বামী ডেভিড উ নিউবাই। এতে নাজাহর মৃত্যু ও তার স্বামীর ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।

আটলান্টাস্থ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জর্জিয়া এবং বাংলাধারার সভাপতি মাহবুব ভূঁইয়া নাজাহর বাবার বরাত দিয়ে বলেন, গত ২ মে হাসপাতালে ভর্তি হন নাজাহ। ৩ মে তার স্বামী ডেভিডের সাথে ফোনে কথা হয় নাজাহর বাবার সঙ্গে। ওই সময় গুরুতর অবস্থায় ইমোরি জোন্স ক্রিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার দৃশ্য দেখিয়েছেন ডেভিড। নাজাহর বাবার সঙ্গে তার স্বামীর যোগাযোগ ছিল ৯ মে পর্যন্ত। এর তিন দিন পর ১২ মে ডেভিড নাজাহর বাবাকে অবহিত করেন যে, ১১ মে নাজাহকে দাফন করা হয়েছে স্থানীয় মুসলিম গোরস্থানে। অথচ মৃত্যুর খবরটি জানায়নি ডেভিড।

এদিকে, নাজাহর অকাল মৃত্যুতে শোকাহত সাবেক সহপাঠিসহ স্থানীয় প্রবাসীরা। তাদের দাবি, নাজাহর মৃত্যু রহস্যে ঘেরা। দ্রুত এ মৃত্যুর কারণ উদঘাটন এবং মরদেহ তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তরে আবেদন করতে হবে।

সহপাঠীরা বলেন, নাজাহর মৃত্যু কীভাবে কেন হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে নাজাহর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হলেও ‘ডেথ সার্টিফিকেট’-এ মৃত্যুর কারণ হিসেবে কী লেখা রয়েছে সেটি কেউই জানতে সক্ষম হচ্ছেন না। কারণ, তার স্থানীয় অভিভাবক হচ্ছেন তার স্বামী। তবে কংগ্রেসম্যানের হস্তক্ষেপে হয়তো সবকিছু উদঘাটিত হবে বলে আশা করেন তারা। নাজাহর মরদেহ যথাযথ মর্যাদায় দাফনের প্রক্রিয়া অবলম্বনের জন্যে। এক্ষেত্রে আমরা প্রবাসীদেরও আন্তরিক সহযোগিতা চাচ্ছি।

উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য ২০২৩ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পারি জমান আনবার নাজাহ। ৮ ফেব্রুয়ারি ডেভিড উ নিউবাই নামে আমেরিকানের সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এর পর থেকেই আটলান্টার জোন্স ক্রিক সিটিতে স্বামীর সাথে বাস করে আসছেন। পাবনার ফেরিঘাট পাড়ার সন্তান নাজাহর দাবা খেলার শখ ছিল। সেই সুবাদেই পরিচয় হয়েছিল ডেভিডের সঙ্গে। নাজাহর বাবা জাকিউর রহমান জিতু বর্তমানে ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা। 

JA
আরও পড়ুন