পাবনার বেড়া পৌর এলাকায় দুই দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে ২৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি কুকুরই ১৬ জনকে কামড়েছে। বাকি ১২ জন পৃথক কয়েকটি কুকুরের আক্রমণে আহত হয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা পর্যন্ত পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বনগ্রাম মহল্লায় রাইয়ান নামে এক শিশুকে একটি কুকুর কামড় দেয়। এতে তার পায়ের মাংস উঠে যায়। এরপর কুকুরটি এক মহল্লা থেকে অন্য মহল্লায় ঘুরে মানুষকে ধাওয়া করে কামড়াতে থাকে। একপর্যায়ে বনগ্রাম, চকপাড়া ও সওদাগরপাড়া মহল্লায় কুকুরটির হামলায় ১৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন।
এ ছাড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লার শুভ, দক্ষিণপাড়ার আব্দুল কাদের, রাবেয়া, তধুরী, আরজু, আলেয়া ও হামিদাসহ আরও ১২ জন পৃথক কয়েকটি কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়।
কুকুরের আক্রমণের শিকার আব্দুল কাদের বলেন, ‘রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি ছুটে এসে পায়ে কামড় বসিয়ে দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি। পাগলা কুকুরের ভয়ে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই দিন ধরে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে পথচারীদের ওপর কুকুরগুলো চড়াও হচ্ছে। কুকুরের ভয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। অনেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকেও বের হচ্ছেন না।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পরপরই ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একের পর এক কুকুরের আক্রমণে আতঙ্কিত এলাকাবাসী পাগলা কুকুরগুলো শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।