ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়ছেন নারীরা

শারীরিক শক্তি বজায় রাখা থেকে শুরু করে হাড়ের সুরক্ষা নারীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন বি১২ একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে সচেতনতার অভাবে অনেক নারীই এই ভিটামিনের ঘাটতিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। প্রায়ই সাধারণ ক্লান্তি, কাজের চাপ বা হরমোনের পরিবর্তন মনে করে এই সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভিটামিন বি১২ কেন অপরিহার্য?

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা ও স্নায়ু কোষ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি ডিএনএ সংশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু মানবদেহ নিজে থেকে এই ভিটামিন তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার ও পানীয়ের মাধ্যমেই এই চাহিদা পূরণ করতে হয়। পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ শরীরে অক্সিজেন পরিবহন সহজ করে এবং কোষের ক্ষতি নিরাময়ে সহায়তা করে।

নারীরা কেন বেশি ঝুঁকিতে?

গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা ও জৈবিক চাহিদার কারণে নারীদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা দেয়। বিশেষ করে:

  • যারা সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী বা প্রাণিজ খাবার এড়িয়ে চলেন।
  • যারা বিভিন্ন হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
  • যারা দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করছেন।

সাধারণ লক্ষণগুলো কী কী?

ভিটামিন বি১২-এর অভাব শরীরে বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • শারীরিক দুর্বলতা: সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা এবং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
  • চুলের সমস্যা: চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঝরে পড়া এবং রুক্ষ ভাব।
  • স্নায়বিক সমস্যা: হাত-পা ঝিনঝিন করা বা অবশ অনুভূতি (প্যারেস্থেসিয়া), ঘন ঘন মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা।
  • মানসিক লক্ষণ: কোনো কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া এবং সহজে কিছু ভুলে যাওয়া।
  • অন্যান্য: জিহ্বায় প্রদাহ, ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট এবং মুখে বারবার আলসার হওয়া।

চিকিৎসা না করালে হতে পারে জটিলতা

শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ‘মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’-র মতো জটিল রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া স্নায়বিক জটিলতা প্রকট হয়ে স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে সেটিকে সাধারণ ক্লান্তি মনে না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিনের মাত্রা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা জরুরি। সুষম খাদ্যতালিকা এবং সচেতনতাই পারে নারীদের এই নীরব স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।