চোখ ফোলা মানেই ঘুমের অভাব নয়, হতে পারে থাইরয়েডের প্রথম সংকেত

সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ফোলা চোখ দেখে অনেকেই ভাবেন হয়তো গত রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি কিংবা অ্যালার্জির সমস্যা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন ভিন্ন কথা। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের এই ফোলা ভাব বা লালচে হওয়া আসলে থাইরয়েড সমস্যার একটি প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষণ হতে পারে।

থাইরয়েড ও চোখের সম্পর্ক

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. স্মিত বাভারিয়ার মতে, থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শরীরের শক্তি ও বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থির কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব সরাসরি চোখের ওপর পড়তে পারে। অনেক সময় শরীরের ওজন পরিবর্তন বা হৃৎস্পন্দনের সমস্যার মতো প্রচলিত লক্ষণগুলো প্রকাশের আগেই চোখের মাধ্যমে থাইরয়েড সমস্যা জানান দেয়।

‘থাইরয়েড আই ডিজিজ’ বা নীরব ঘাতক

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘থাইরয়েড আই ডিজিজ’। এটি একটি অটো-ইমিউন সমস্যা, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত চোখের চারপাশের সুস্থ টিস্যুকে আক্রমণ করে। এর ফলে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়:

  • চোখের পাতা ফুলে যাওয়া ও ভারী বোধ করা।
  • চোখ লাল হওয়া এবং অনবরত পানি পড়া।
  • চোখ শুষ্ক লাগা বা খসখসে অনুভূতি।
  • চোখ কিছুটা বাইরের দিকে বেরিয়ে আসছে (Bulging) বলে মনে হওয়া।

কেন অবহেলা বিপজ্জনক?

এই রোগের সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো এর প্রাথমিক উপসর্গগুলো খুবই সাধারণ। চোখ ফোলাকে গুরুত্ব না দিয়ে অনেকে ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সঠিক সময়ে থাইরয়েড শনাক্ত না হলে চোখের গঠনগত স্থায়ী পরিবর্তন হতে পারে, যা রোগীকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তোলে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

বিশেষজ্ঞরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দিয়েছেন: ১. দীর্ঘ সময় ধরে চোখের পাতা ফুলে থাকা। ২. তীব্র আলোতে চোখে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া করা। ৩. ঘুমানোর সময় চোখের পাতা পুরোপুরি বন্ধ করতে সমস্যা হওয়া। ৪. চোখের চারপাশের চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

প্রতিকার ও সমাধান

ডা. বাভারিয়া জানান, সাধারণ কিছু রক্ত পরীক্ষা (Thyroid Profile) এবং চোখের পরীক্ষার মাধ্যমেই এই সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। আশার কথা হলো, রোগটি শুরুতে ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসায় চোখের অস্বস্তি ও জটিলতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এতে দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত থাকে এবং চেহারার অস্বাভাবিক পরিবর্তনও ঠেকানো সম্ভব হয়।

তাই আয়নায় চোখের কোনো পরিবর্তন নজরে এলে তাকে কেবল ‘ক্লান্তি’ বলে এড়িয়ে না গিয়ে শরীরের ভেতরের সংকেত বোঝার চেষ্টা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।