ডিম খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি? কী বলছেন পুষ্টিবিদরা

সাশ্রয়ী দাম, সহজলভ্যতা আর অপরিসীম পুষ্টিগুণের কারণে ডিমকে প্রকৃতির ‘সুপারফুড’ বলা হয়। ছোট-বড় সবার রোজকার খাদ্যতালিকায় ডিম একটি অপরিহার্য নাম। তবে ডিম দিনের কোন সময়ে খাওয়া শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো—তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় কাজ করে। কেউ সকালে নাশতায় ডিম খেতে পছন্দ করেন, আবার কেউ দুপুরের ভাতের সাথে ডিমের তরকারি ভালোবাসেন।

তাহলে পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ডিম খাওয়ার একদম সঠিক সময় কোনটি? কখন খেলে শরীর ডিমের প্রোটিন ও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সবচেয়ে কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে পারে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দিয়েছেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা।

ডিম খাওয়ার সেরা সময়: সকাল না দুপুর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাশতাই ডিম খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। সকালে ডিম খাওয়ার বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত সুফল রয়েছে—

অনেকক্ষণ ক্ষুধামুক্ত রাখে

ডিমে রয়েছে উন্নতমানের প্রোটিন ও দরকারী ফ্যাট। সকালে ডিম খেলে পেট অনেক দীর্ঘসময় ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে দুপুরের আগে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে এবং হাবিজাবি স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন কমাতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য এটি বেশ কার্যকর।

মেটাবলিজম ও শক্তি বাড়ায়

সারা রাতের বিরতির পর সকালে শরীরের পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা বেশি থাকে। সকালে ডিম খেলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম দ্রুত কাজ করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি-১২ দিনভর কাজের উদ্দীপনা যোগায়।

পেশির ক্ষয়রোধ ও গঠনে সাহায্য করে

রাতে বিশ্রামের সময় পেশিতে যে ক্ষয় হয়, সকালের ডিমের প্রোটিন তা দ্রুত পূরণে কাজ করে। যারা প্রতিদিন শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য সকালে ডিম খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দুপুরে ভাতের সাথে ডিম খেলে কী হয়?

বাঙালি পরিবারে দুপুরে গরম ভাতের সাথে ডিমের ঝোল বা ভুনা অত্যন্ত জনপ্রিয়। দুপুরে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদরা কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখার পরামর্শ দেন—

হজমে দীর্ঘসূত্রতা: দুপুরে কার্বোহাইড্রেট বা ভাতের সাথে ডিম খেলে পুরো খাবার হজম হতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

পুষ্টি উপাদান শোষণ: সকালের হালকা খাবারের তুলনায় দুপুরের ভারী খাবারের সাথে খেলে ডিমের পুষ্টি উপাদানগুলো শরীর পুরোপুরি শুষে নিতে কিছুটা বাধা পায়।

পেটে অস্বস্তি: অনেকের ক্ষেত্রে দুপুরে অতিরিক্ত ভাতের সাথে ডিম খেলে পেটে ভারী ভাব বা এসিডিটি তৈরি হতে পারে।

কখন ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ডিম খাওয়া উচিত নয়। কারণ ভারী প্রোটিন সহজে হজম হতে চায় না, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি এসিডিটির কারণ হতে পারে।

পরামর্শ

শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের নাশতায় ডিম রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকলে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে দুপুরে ডিম খেলেও কোনো ক্ষতি নেই। আসল কথা হলো—প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাওয়া সার্বিক সুস্থতার জন্য দারুণ উপকারী।