কাজ, পড়াশোনা কিংবা বিনোদন-প্রায় সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের ব্যবহার বেড়েছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখেন, আবার কেউ বিছানা বা সোফায় বসে কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করেন। এসব অভ্যাস শরীরের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পুরুষের শুক্রাণুর গুণমান ও প্রজননক্ষমতার সঙ্গে এসব যন্ত্রের ব্যবহারের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ল্যাপটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলো তাপ। দীর্ঘ সময় কোলে ল্যাপটপ রাখলে যন্ত্রটির তাপ শরীরের সংস্পর্শে থাকা অংশের তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। এতে অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রাও প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত তাপের দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শ শুক্রাণু উৎপাদন ও গুণমানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে শুধু কোলে ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে কোনো ব্যক্তির প্রজননক্ষমতা কমে যায়—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।
ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘ সময় কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ না করে ডেস্ক বা ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে যন্ত্রের তাপের সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো সহজ হয়।
প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখার বিষয়টিও গবেষকদের আগ্রহের জায়গা। স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা আরএফ তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় মোবাইল ফোনের সংস্পর্শের সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সব গবেষণার ফলাফল এক নয়।
মোবাইল ফোন পকেটে রাখার কারণে সরাসরি পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যায়—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ফলে এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দীর্ঘ সময় ফোন শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে না রেখে ব্যাগে বা কিছুটা দূরে রাখার সুযোগ থাকলে তা করা যেতে পারে।
প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে শুধু ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার নয়, সামগ্রিক জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ধূমপান এড়িয়ে চলাও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও সন্তানধারণে সমস্যা হলে শুধু মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের অভ্যাসকে দায়ী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রজননসংক্রান্ত সমস্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, মোবাইল ফোন পকেটে রাখা বা কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার করলেই প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়—এমন প্রমাণ নেই। তবে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, ব্যবহারের অভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন প্রজননস্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।