মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মাঝে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পাশে থাকার জোরালো অঙ্গীকার করেছে চীন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে এই সমর্থন ব্যক্ত করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকার ‘উসকানিমূলক কার্যক্রম’ পুরো অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই জলপথে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা সরাসরি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।’
জবাবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বর্তমান সংকটের মুখে ইরানি জনগণের ‘সহনশীলতার’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘চীন দৃঢ়ভাবে ইরানের পাশে আছে।’ বেইজিং এই সংঘাতের একটি স্থায়ী ও কূটনৈতিক সমাধান আনতে যেকোনো ধরণের মধ্যস্থতা বা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
এদিকে, যুদ্ধের ময়দান থেকে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এক ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে তারা জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের (মূলত পাকিস্তান ও ওমান) প্রচেষ্টায় বড় ধরণের অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে এই মেয়াদ আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিবদমান দুই পক্ষই অর্থাৎ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এই মেয়াদ বৃদ্ধিতে ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের কূটনৈতিক সমর্থন এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যকে একটি ভয়াবহ মহাযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।