হিজবুল্লাহর ড্রোন রুখতে ইসরায়েলি যানে ‘অ্যান্টি-ড্রোন নেট’

লেবাননে চলমান যুদ্ধের ময়দানে ড্রোন হামলা মোকাবিলায় নতুন এক প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইউক্রেনীয় বাহিনীর আদলে তারা এখন নিজেদের সামরিক যানবাহনে ‘অ্যান্টি-এফপিভি ড্রোন নেট’ বা এক ধরণের বিশেষ জাল ব্যবহার করছে। মূলত স্বল্পমূল্যের এই ব্যবস্থাটি ড্রোন হামলা থেকে যানবাহন ও সেনাসদস্যদের সুরক্ষা দিতে তৈরি করা হয়েছে।

ডিফেন্স এক্সপ্রেসের ২৯ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ফুটেজে দেখা গেছে যে, ইসরায়েলের একটি ‘হামভি’ (HMMWV) গাড়ির ওপর হালকা ওজনের ফ্রেম দিয়ে ঘেরা একটি জালের আবরণ তৈরি করা হয়েছে। এই জালটি মূলত ইনকামিং এফপিভি (FPV) ড্রোনকে প্রতিহত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ভিডিওটিতে একটি ড্রোনকে সরাসরি গাড়িতে আঘাত না করে ওপরের জালের কাঠামোতে আছড়ে পড়ার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে।

বর্তমানে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এফপিভি ড্রোনের ব্যবহার কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম সব সময় কার্যকর না হওয়ায় এবং উচ্চমূল্যের সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Active Protection System) সব জায়গায় মোতায়েন করা সম্ভব না হওয়ায় ইসরায়েল ইউক্রেনের মতো এই সাশ্রয়ী পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।

ইউক্রেনীয় বাহিনী সাধারণত আরও মজবুত ধাতব কাঠামোর ওপর এই সুরক্ষা জাল ব্যবহার করে। তবে ইসরায়েলের বর্তমান সংস্করণটি তুলনামূলক হালকা এবং কম কাঠামোগত সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি আঘাত থেকে গাড়িকে রক্ষা করলেও উন্মুক্ত সামরিক যানে থাকা সেনাসদস্যদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবে না।

শুধুমাত্র ইসরায়েল বা ইউক্রেন নয়, চীনও বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ট্যাংকের জন্য মডুলার ড্রোনরোধী বর্ম বা আর্মার তৈরি করছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ট্যাক আর্মার্ড ভেহিকেলস’ এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ড্রোনরোধী সুরক্ষা সংবলিত সাঁজোয়া যান তৈরি শুরু করেছে।

ইসরায়েলের রাফায়েল কোম্পানি তাদের বিখ্যাত ‘ট্রফি’ (Trophy) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ড্রোন মোকাবিলার উপযোগী করার চেষ্টা করলেও বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে এফপিভি ড্রোনের বিরুদ্ধে এটি কতটা কার্যকর, তা এখনো অস্পষ্ট। সূত্র: ইউনাইটেড২৪ মিডিয়া