কেনিয়ায় 'জেন-জি' আন্দোলনের দুই বছর, বিচারের অপেক্ষায় শত পরিবার

কেনিয়ায় সরকারবিরোধী ‘জেন-জি’ আন্দোলনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহত ও নিখোঁজদের পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। ২০২৪ সালের ২৫ জুন বিতর্কিত অর্থ বিলের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হন। কিন্তু দুই বছর পরও অধিকাংশ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাজধানী নাইরোবিতে নিহতদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্মরণ সমাবেশ ও মিছিল করেন। তারা নিহতদের জন্য বিচার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৬ জন এবং ২০২৫ সালের বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ১৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহতদের একজন ছিলেন ২৩ বছর বয়সী ডেনজেল ওমন্ডি। পরিবারের দাবি, সংসদ ভবনে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তাকে আটক করা হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলেও দুই বছরেও কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।

কেনিয়ার স্বাধীন পুলিশ তদারকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের বিক্ষোভে নিহত ৬২ জনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি মামলা আদালতে গিয়েছে। আরও কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন থাকলেও অধিকাংশ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া এখনো অসম্পূর্ণ।

ইমানুয়েল কামাউ মুকুরিয়া নামের আরেক তরুণকে ২০২৪ সালের ২৫ জুন আটক করার পর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তার মা সুসান ওয়াঙ্গারি জানান, ছেলেকে খুঁজতে তিনি দেশের বিভিন্ন কারাগার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়েছেন, কিন্তু কোনো তথ্য পাননি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এদিকে সরকার ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন বিক্ষোভ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি চালু করেছে। প্রথম ধাপে ৩৪৮ জন ভুক্তভোগীর জন্য প্রায় ৩৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই বলছেন, আর্থিক সহায়তার চেয়ে তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সত্য উদঘাটন, নিখোঁজদের সন্ধান এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা। নিহত ডেনজেল ওমন্ডির বাবা জেমস ওতিয়েনোর ভাষায়, কোনো অর্থই সন্তানের জীবনের সমমূল্য হতে পারে না; তারা শুধু চান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। সূত্র: আলজাজিরা